
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অবাধ তথ্যের সরবরাহ
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
তথ্য জানার অধিকার অন্যতম মানবাধিকার। অবাধ তথ্যের সরবরাহ নিশ্চিত ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয় না, আর জনগণের অংশগ্রহণও অর্থবহ হয় না। রাষ্ট্র জনগণের জন্য এবং জনগণের অর্থেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রের প্রশাসন কতটা স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে জনগণ সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কতটা সহজে ও নির্ভরযোগ্যভাবে তথ্য জানতে পারছে তার ওপর। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া ও জনসেবার বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। কারণ তথ্য জানার সুযোগ থাকলেই নাগরিক প্রশ্ন করতে পারেন, অনিয়ম চিহ্নিত করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে জবাবদিহি দাবি করতে পারেন। তাই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে কঠোর আইন ও শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজন তথ্যের অবাধ সরবরাহ এবং তথ্য প্রকাশের একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক সংস্কৃতি।
তথ্য অধিকার কোনো দয়া বা প্রশাসনিক অনুগ্রহ নয়। এটি নাগরিকের আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণ জানতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। কোনো নাগরিক যদি জানতে চান তার এলাকার একটি রাস্তা নির্মাণে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কাজটি কোন ঠিকাদার পেয়েছেন, কাজ শেষ করার সময়সীমা কত, বিল কত দেওয়া হয়েছে কিংবা কাজের মান যাচাই করা হয়েছে কি না, তাহলে সেই প্রশ্নকে অস্বাভাবিক বা বিরক্তিকর হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং এমন প্রশ্নকে সুশাসনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
তথ্য যেখানে অস্বচ্ছ, সেখানে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ যদি জনগণের অজানা থাকে, প্রকল্পের ব্যয় যদি প্রকাশ না করা হয়, কাজের অগ্রগতি যদি যাচাইযোগ্য না হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যদি অস্পষ্ট থাকে, তাহলে সেখানে দুর্নীতি, অপচয় ও স্বেচ্ছাচারিতার ঝুঁকি বাড়ে। বিপরীতে তথ্য যদি সহজলভ্য হয়, তাহলে জনগণ, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাই কার্যকরভাবে নজরদারি করতে পারে। তাই তথ্যের স্বচ্ছতা শুধু নাগরিকের জানার বিষয় নয়, এটি দুর্নীতি প্রতিরোধেরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে একটি সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি দিয়েছে। কিন্তু একটি আইন থাকা আর সেই আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এক বিষয় নয়। একজন সাধারণ মানুষ কতটা জানেন যে তিনি কী তথ্য চাইতে পারেন? কোথায় আবেদন করতে হবে? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে? নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পেলে কী করবেন? আপিল বা অভিযোগের ব্যবস্থা কী? অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ নাগরিক এসব বিষয়ে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। ফলে অধিকার থাকা সত্ত্বেও তা প্রয়োগের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না।
তথ্যকে জনগণের অধিকার হিসেবে দেখার মানসিকতা সর্বত্র সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এখনো এমন ধারণা দেখা যায় যে তথ্য দেওয়া মানে যেন প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠান জনগণের অর্থে পরিচালিত। সেখানে নাগরিকের বৈধ প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই দায়িত্ব। জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কোনো অতিরিক্ত কাজ নয়, এটি সরকারি দায়িত্বেরই অংশ।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশে। জনগণ তথ্য চাইবে, তারপর কোনো দপ্তর তথ্য দেবে, এমন ব্যবস্থা যত বেশি থাকবে, তত বেশি জটিলতা তৈরি হবে। বরং যেসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো আগে থেকেই প্রকাশ করতে হবে। সরকারি বাজেট, প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ, ব্যয়ের অগ্রগতি, ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজের সময়সীমা, বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন পদ্ধতি এবং সরকারি সেবার নিয়মকানুন সহজ ভাষায় জনগণের সামনে থাকা উচিত।
বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার গুরুত্ব আরও বেশি। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জনগণের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক যদি না জানেন তার এলাকায় কোন প্রকল্পে কত টাকা এসেছে, সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে এবং প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কী, তাহলে জনগণের অংশগ্রহণমূলক নজরদারি কীভাবে সম্ভব? শুধু প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলক বসিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
একইভাবে সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন, কৃষি, ভূমি প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্থানীয় অবকাঠামোসহ জনসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্য সহজলভ্য করা জরুরি। একজন রোগী জানতে পারবেন সরকারি হাসপাতালে কোন সেবা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা, একজন কৃষক জানতে পারবেন তিনি কোন সরকারি সহায়তার জন্য যোগ্য, একজন শিক্ষার্থী জানতে পারবেন কোন সুযোগ-সুবিধা তার প্রাপ্য এবং একজন ভূমিমালিক জানতে পারবেন তার জমি সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়া কী। তথ্যের অভাবে নাগরিককে দালালের ওপর নির্ভর করতে হলে সেটি শুধু তথ্যের ঘাটতি নয়, সুশাসনেরও দুর্বলতা।
তথ্য গোপন রাখার সংস্কৃতি দুর্নীতিকে শক্তিশালী করে, আর তথ্য উন্মুক্ত করার সংস্কৃতি জবাবদিহিকে শক্তিশালী করে। তাই তথ্য অধিকার বাস্তবায়নকে দুর্নীতি প্রতিরোধের জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। একটি প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ যদি ডিজিটালভাবে দৃশ্যমান থাকে, তাহলে কাজের অগ্রগতি, ব্যয় এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা সহজ হয়। সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্পে এমন ডিজিটাল স্বচ্ছতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে শুধু তথ্য অনলাইনে তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তথ্য হতে হবে নির্ভুল, হালনাগাদ, সহজবোধ্য এবং অনুসন্ধানযোগ্য। এমন নয় যে একটি ওয়েবসাইটে কয়েকশ পৃষ্ঠার জটিল নথি আপলোড করে বলা হলো তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যদি সেই তথ্য বুঝতেই না পারেন, তাহলে সেটি কার্যকর স্বচ্ছতা নয়। জনগণের ভাষায়, প্রয়োজনীয় কাঠামোয় এবং সহজে খুঁজে পাওয়া যায় এমনভাবে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
তথ্য না দেওয়ার সংস্কৃতির পাশাপাশি আরেকটি সমস্যা হলো অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা। একজন নাগরিক আইন অনুযায়ী তথ্য চাইলেন, কিন্তু তথ্য পেতে যদি তাকে বারবার দপ্তরে যেতে হয়, কর্মকর্তা খুঁজতে হয়, আবেদন সম্পর্কে জানতে হয় বা মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তার আইনগত অধিকার বাস্তবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তথ্য প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি। দায়িত্বে অবহেলা বা অযৌক্তিক বিলম্বের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার, স্বচ্ছতা মানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সব সীমা তুলে দেওয়া নয়। আইন দ্বারা সুরক্ষিত তথ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতাকে সাধারণ তথ্য গোপন করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো তথ্য প্রকাশযোগ্য না হলে তার আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট হতে হবে। জনস্বার্থের তথ্য গোপন করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকারও পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একজন সাংবাদিক যখন সরকারি নথি, প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাচাই করতে চান, তখন সহজে তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শক্তিশালী হয়। এর ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতি সামনে আসে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি বাড়ে এবং জনগণ বাস্তব চিত্র জানতে পারে। তবে একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই অপরিহার্য। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য প্রকাশ করলে স্বচ্ছতার পরিবর্তে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তথ্যের অধিকার বাস্তবায়নে নাগরিকদেরও সক্রিয় হতে হবে। রাষ্ট্র সব তথ্য নিজে থেকে প্রকাশ করবে, এমন প্রত্যাশা করলেই হবে না। জনগণকে জানতে হবে তাদের অধিকার কী এবং কীভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনের মাধ্যমে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে তরুণদের তথ্য যাচাই, সরকারি তথ্যের উৎস চেনা এবং আইনগতভাবে তথ্য চাওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা। একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধু কাজ করার জন্য নয়, কাজের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। কত টাকা খরচ হয়েছে, কেন খরচ হয়েছে, কাজের ফলাফল কী, সময়মতো কাজ হয়নি কেন, জনগণ কী সুবিধা পেয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। জনগণের প্রশ্নকে বিরোধিতা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং প্রশ্ন করার পরিবেশ যত শক্তিশালী হবে, প্রশাসনিক দুর্বলতা তত দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। তথ্য চাওয়ার পর নাগরিককে প্রমাণ করতে হবে কেন তিনি তথ্য চান, এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের জানার অধিকারকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে তথ্য গোপন করার আইনগত কারণ নেই, সেখানে তথ্য প্রকাশই হবে স্বাভাবিক নিয়ম। সরকারি অফিসের নথি, প্রকল্পের ব্যয়, জনসেবার মান ও জনগণের অর্থ ব্যবহারের তথ্য জনগণের কাছ থেকে অকারণে লুকিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
একই সঙ্গে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রকাশের মানদণ্ড নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে, কতদিন পর হালনাগাদ করতে হবে, কে তা প্রকাশ করবেন এবং ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য কে দায়ী থাকবেন, এসব বিষয়ে স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ প্রয়োজন। শুধু তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ করলেই হবে না, প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেই তথ্যের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তথ্যের অধিকার যত দুর্বল হবে, গুজব ও অপতথ্যের সুযোগ তত বাড়বে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সময়মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য না দিলে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সঠিক তথ্য প্রকাশ শুধু জবাবদিহির জন্য নয়, জনআস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো অবাধ তথ্যের সরবরাহ। প্রশাসনের কর্মকাণ্ড, সরকারি অর্থের ব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়, সরকারি ক্রয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নাগরিক সেবার তথ্য যত বেশি উন্মুক্ত থাকবে, অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তত বেশি সংকুচিত হবে। কারণ তথ্যের আলোতে কোনো অনিয়ম দীর্ঘদিন আড়ালে রাখা কঠিন। জনগণ তথ্য জানবে, প্রশ্ন করবে এবং প্রয়োজন হলে জবাবদিহি দাবি করবে। আর জনগণের এই নজরদারিই প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে।
তাই তথ্য চাওয়ার পর নাগরিককে হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে না ফেলে দ্রুত ও সহজে তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ও সহজবোধ্যভাবে প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয়, বাস্তবায়ন অগ্রগতি, সরকারি ক্রয় ও জনসেবার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তথ্য গোপন বা প্রকাশে অযৌক্তিক বিলম্বের জন্যও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু দুর্নীতিবাজকে শাস্তি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এমন অস্বচ্ছ পরিবেশও দূর করতে হবে। আর সেই অস্বচ্ছতা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো অবাধ তথ্যের সরবরাহ। তথ্য যত অবাধ হবে, প্রশাসন তত স্বচ্ছ হবে, প্রশাসন যত স্বচ্ছ হবে, জবাবদিহি তত শক্তিশালী হবে, আর জবাবদিহি যত শক্তিশালী হবে, দুর্নীতির সুযোগ তত সংকুচিত হবে। তাই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে অবাধ তথ্যের সরবরাহ অপরিহার্য।
লেখক পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (কৃষি) কেন্দ্রীয় কমিটি
যুগ্মমহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটি
ফোন: ০১৫৫২৬৩১১১৮, ০১৮৪২৬৩১১১৮
ইমেইল: lionganibabul@gmail.com