সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

কাজ না করেই ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ!

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬



কাজ না করেই ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ! ​এলজিইডি প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক

​
ফালু মিয়া

নরসিংদী জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশার বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
​দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিরোজপুর জেলায় ‘দক্ষিণাঞ্চলের লোহার সেতু পুনর্নির্মাণ/পুনর্বাসন প্রকল্প (আইবিআরপি)’-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালে তিনি এ অনিয়ম করেন। প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ভুয়া কাগজপত্র সাজিয়ে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ১২৫টিসহ মোট ১২৮টি প্যাকেজের বরাদ্দকৃত পুরো অর্থই তুলে নেওয়া হয়েছে।
​এ বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তাকে নরসিংদীতে পদায়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৫ জুলাই এলজিইডি সদর দপ্তর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীরকে নরসিংদীতে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। এর বদলে ফুলকাম বাদশাকেই স্বপদে বহাল রাখা হয়, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এক প্রভাবশালী ব্যক্তির তদবিরের জোরেই তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
​বর্তমানে পিরোজপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফুলকাম বাদশা সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে দুদকে কোনো মামলা হয়নি।”
​অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি তাদের জানা আছে। পূর্বে তাকে বদলির চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি, তবে বর্তমানে তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews