বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
কালাইয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা, কাঁটাহার ফুটবল একাডেমির অভিভাবক সমাবেশ চাটখিলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর লাশ উদ্ধার মাদকাসক্তি থেকে টেকসই সুস্থতায় চাই সহায়ক পারিবারিক পরিবেশ পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে বান্দরবান ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা মনোহরদীতে নগদ টাকাসহ ৪ জুয়াড়ি গ্রেপ্তার গাজীপুরে নকল ও ভেজাল তেল তৈরির অবৈধ কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ১ চাটখিলে কৃতি শিক্ষার্থীদের কে সংবর্ধনা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য সহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে চারঘাট মডেল থানা পুলিশ বান্দরবানে আনসার ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান “শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, অদম্য মনোবলই শক্তি—পা দিয়ে লিখে দাখিল পাস আশরাফ

মাদকাসক্তি থেকে টেকসই সুস্থতায় চাই সহায়ক পারিবারিক পরিবেশ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬



মাদকাসক্তি থেকে টেকসই সুস্থতায় চাই সহায়ক পারিবারিক পরিবেশ

তরিকুল ইসলাম

মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ বা ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়; এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ। মাদকাসক্তির সঙ্গে মানসিক রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ডুয়াল ডায়াগনসিস’ নামে পরিচিত। রোগীর টেকসই সুস্থতা ও পুনর্বাসনে পরিবারের সচেতনতা, মানসিক সমর্থন এবং সহায়ক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ৩টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় রোগীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি এডুকেশন মিটিং’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

“ফ্যামিলি এডুকেশন মিটিং অন দ্য রোল অব ফ্যামিলি অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ইন সাসটেইনেবল রিকভারি ফ্রম মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড অ্যাডিকশন” শীর্ষক সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আরিফুজ্জামান।

তিনি বলেন, তীব্র মানসিক কষ্ট বা বিষণ্নতা থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ মাদকের আশ্রয় নিতে পারেন। আবার দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে গুরুতর মানসিক সমস্যা, এমনকি সাইকোসিসও দেখা দিতে পারে।

ডা. আরিফুজ্জামান বলেন, মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ একসঙ্গে থাকলে রোগীর আচরণে হঠাৎ তীব্র পরিবর্তন, মারমুখী আচরণ কিংবা ওভারডোজের মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। রোগীকে মারধর বা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না; প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রিহ্যাব থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রোগীর সুস্থতা ধরে রাখতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন ও সহায়ক পরিবেশ দিতে না পারলে রোগীর পুনরায় মাদক গ্রহণ বা ‘রিল্যাপস’-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রোগীকে অতীতের ভুল নিয়ে বারবার দোষারোপ বা অতিরিক্ত সন্দেহ না করে চাপমুক্ত, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের চিকিৎসাধীন ক্লায়েন্টদের অভিভাবক এবং ‘মায়ের হাসি’ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ক্লায়েন্টদের অভিভাবকেরা অংশ নেন। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর এর পরিচালক মহোদয় অভিভাবক এর উদ্দেশ্যে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং রোগীর সুস্থতায় পরিবারের ভূমিকা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক মহাদয় জনাব ইকবাল মাসুদ, সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলী, কেন্দ্র ব্যবস্থাপক লায়লা ইয়াসমিন, কেস ম্যানেজার আফসানা খাতুন ও ফারজানা ডেরোসসহ কেন্দ্রের কাউন্সেলররা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসা শুধু মাদক থেকে দূরে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ ও পুনর্বাসনকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন ও সহায়ক পরিবার রোগীর টেকসই সুস্থতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews