রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চাটখিল ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান ইংলিশ একাডেমি’র কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে সীতাকোট বিহার পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জৈন্তাপুরে বিদেশি অস্ত্র ও লুটের গুলি উদ্ধার জয়পুরহাটে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত মানিকগঞ্জ জাদুঘর প্রাঙ্গণে স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত ‌ আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে জহির উদ্দিন স্বপন সমৃদ্ধ পর্যটন শিল্প গড়তে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা! ঐতিহাসিক ঘোড়াঘাট দুর্গ ও সুজা মসজিদ পরিদর্শন করলেন দুই মন্ত্রী মেঘনায় ১০ ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

নামমাত্র ভাড়ায় দোকান বরাদ্দ: শর্ত ভেঙে সাব-লেটে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬



নরসিংদী পৌরসভায় নামমাত্র ভাড়ায় দোকান বরাদ্দ: শর্ত ভেঙে সাব-লেটে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

​ফালু মিয়া

নরসিংদী পৌরসভার আওতাধীন দোকান বরাদ্দ নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক লিজগ্রহীতার বিরুদ্ধে। এর ফলে একদিকে পৌরসভা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মবহির্ভূত সংস্কার ও অতিরিক্ত তলা নির্মাণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভবনটি, যা স্থানীয়দের জননিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে আসে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে নরসিংদী পৌরসভার ডিসি রোডের ভেলানগর জেলখানা মোড় এলাকায় পৌরমার্কেটের একটি দোকান মাসিক মাত্র ৩ হাজার ৭০ টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ পান জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। পৌরসভার চুক্তি অনুযায়ী, বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকানটি লিজগ্রহীতাকে নিজে পরিচালনা করতে হবে এবং এটি কোনোভাবেই অন্য কারও কাছে হস্তান্তর বা সাব-লেট দেওয়া যাবে না।
​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চুক্তি ভেঙে প্রায় ৮ মাস আগে জহিরুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অগ্রিম জামানতের বিনিময়ে দোকানটি ‘নাজমা মেডিকেল হল’-এর মালিক মো. আক্তার ভূঁইয়ার কাছে ভাড়া দেন। বর্তমানে তিনি ওই দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা সাব-লেট ভাড়া আদায় করছেন।
​শুধু সাব-লেট দেওয়াই নয়, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনের ছাদের ওপর অননুমোদিতভাবে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করে ‘প্ল্যান ভিউ কনসালটেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স’ নামে একটি অফিস পরিচালনা করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
​এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া মো. আক্তার ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দোকানটি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ার পরিমাণ জানাতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে অভিযুক্ত লিজগ্রহীতা জহিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি পৌরসভার যাবতীয় শর্ত মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
​বিষয়টি নিয়ে পৌর প্রশাসক মো. সফি উল্লাহ ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
​এদিকে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক নাদিরা আক্তারের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট লিজগ্রহীতাকে ‘মাফিয়া চক্রের প্রধান সদস্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
​পৌরসভার আইন লঙ্ঘন করে সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার বন্ধ, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অবৈধ নির্মাণ অপসারণে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews