
রংপুরে মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার : বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ মাদকবিরোধী কমিটির
সানোয়ারুল ইসলাম সোহান ;রংপুর
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ও তিস্তা নদীবেষ্টিত মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ও অবাধে মাদক কেনাবেচা চলছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-দুপুরেও বিভিন্ন স্থানে অনেকটা বাজারের মতো করে মাদক বিক্রি হচ্ছে। মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় মারামারি, জুয়া, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা বলেন, তাদের চোখের সামনে অনেক কিশোর-তরুণ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের কারণে তাদের সুন্দর জীবন ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরাও।
মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনের নাম প্রকাশ করে মাদকবিরোধী কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, মর্ণেয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, মাদক কারবারে জড়িত হিসেবে স্থানীয়ভাবে বড় ডিলার সাইদুর হোসেন, জোনাব আলী, ফেরদৌস ও নুরুজ্জামান, তাদের কাছ থেকে পাইকারী নিয়ে খুচরা বিক্রি করে রশিদ, আলম, সালমা বেগম (গেদী), শুভ, নুরা, একরামুল হক একরা, আশিকুর, আরিফুল, সোহাগ, পাষাণ, শিমুল,মাকছুদার ও মনারুলের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে মাদকবিরোধী কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে স্কাফ, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার এবং মাদক কারবারিদের আটক করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমেও অনেককে সাজা ও জরিমানা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযানের পরও মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মর্ণেয়া ইউনিয়নের তালপট্টি বাজার এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন ও অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এ সময় তারা ইউনিয়ন থেকে মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যদের দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছে। তারা মাদক বিক্রেতাদের সতর্ক করার পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, মর্ণেয়া ইউনিয়নের তালপট্টি বাজার, ভাঙাগড়া, নরশিং, জমচওড়া, চৌদ্দমাথা, হাজীর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদক বিক্রি হচ্ছে। তাদের আরও অভিযোগ, ভাঙাগড়া, তালপট্টি ও নরশিং এলাকায় স্থানীয় এক নেতা এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মাসোহারা দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যদের দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদক বিক্রি বন্ধে তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন। এরপর কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম (২৫) ফজলু (১৮) ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মাদক বিরোধী কমিটির সদস্যরা জানান, হামলা ও হুমকির ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এক সদস্য বলেন, এই ইউনিয়নে কোনো মাদক ব্যবসার স্থান হবে না। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হবে। মর্ণেয়া ইউনিয়ন থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে তিস্তা নদী পেরিয়ে সহজেই বিভিন্ন ধরনের মাদক মর্ণেয়া ইউনিয়নে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, স্কাফ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সহজেই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।
মাদকের সহজলভ্যতার কারণে যুব সমাজের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে মাদকসহ কারবারিদের আটক করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি মাদক নির্মূলে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় মাদকবিরোধী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।