
বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে অনিয়মের মহোৎসব: তোয়াক্কা করা হচ্ছে না রাজউকের নিয়ম-নীতি
বিশেষ প্রতিনিধি | কেরানীগঞ্জ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত নির্মাণ বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে গড়ে উঠছে একের পর এক বহুতল আবাসিক ভবন। নকশা অনুমোদন না নেওয়া, কেনোপি ব্যবহার না করা, কাজের সামনে কোন প্রকার তথ্য বোর্ড না থাকা এবং ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই দেদারসে চলছে এসব ভবনের নির্মাণ কাজ।
সরেজমিনে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বসুন্ধরা বি -ব্লক, রোড -১১এ, প্লট- ১৩৩৪
নির্মাণাধীন ভবনের একটি বড় অংশে রাজউকের ন্যূনতম নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। সম্প্রতি একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে দেখা যায়, আরসিসি ফ্রেম কাঠামোর কাজ শেষ হলেও সেখানে নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম গ্রিন নেট বা সেফটি নেটের কোনো ব্যবহার নেই। ভবনটির প্রতিটি তলায় বর্ধিত হিসেবে যেসব ব্যালকনি/ক্যান্টিলিভার স্ল্যাব ঢালাই দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সামনের রাস্তার সীমানা স্পর্শ করে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাছাড়াও, নির্মাণাধীন অংশ থেকে যেকোনো সময় ইট বা ইট-পাথরের টুকরো নিচে পথচারী বা শ্রমিকদের ওপর পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজউকের তদারকির অভাবেই ভবন মালিক ও ডেভেলপাররা অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছেন। কোনো রকম রাজউক অনুমোদিত নকশা ছাড়াই কেবল নিজস্ব পরিকল্পনায় তড়িঘড়ি করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পুরো আবাসিক এলাকার বাতাস চলাচল ও প্রাকৃতিক আলোর পথ বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় কোনো দুর্যোগের সময় এই ভবনগুলো বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে রাজউকের কোনো নিয়মের তোয়াক্কা কেউ করছে না। বহুতল ভবন উঠছে কিন্তু কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। নিচের রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।”
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেরানীগঞ্জ রাজউকের ডিএপি (বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা)-এর আওতাভুক্ত এলাকা হলেও বাস্তবে এখানে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রয়োগের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। এ বিষয়ে রাজউকের নিয়মিত অভিযান ও তদারকি জোরদার করা না হলে ভবিষ্যতে কেরানীগঞ্জের এই পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পটি এক ঝুঁকিপূর্ণ ও জঞ্জালপূর্ণ এলাকায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।