ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবে আস্থা, সংকট জনবলে
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর
জনবল সংকটের মধ্যেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে হাসপাতালটিতে ৪৩১টি প্রসব হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৩টি স্বাভাবিক এবং ১৮টি সিজারিয়ান প্রসব।
তবে একই সময়ে হাসপাতালটিতে জনবল সংকটও প্রকট। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে অনুমোদিত ৪১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৬ জন। শূন্য রয়েছে ২৫টি পদ। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের ৮৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৯ জন এবং শূন্য রয়েছে ৪৫টি পদ। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন দুজন। ওয়ার্ডবয়ের পদেও কেউ কর্মরত নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। ফুলবাড়ীর পাশাপাশি নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও বিরামপুর উপজেলার রোগীরাও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪৪৯ জন প্রসূতি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ৪৩১ জনের প্রসব করানো হয়। জানুয়ারিতে ৮১টি স্বাভাবিক ও চারটি সিজার, ফেব্রুয়ারিতে ৬৯টি স্বাভাবিক ও চারটি সিজার, মার্চে ৬৪টি স্বাভাবিক ও তিনটি সিজার, এপ্রিলে ৬১টি স্বাভাবিক ও চারটি সিজার এবং মে মাসে ৭২টি স্বাভাবিক ও তিনটি সিজার হয়েছে। জুনে ভর্তি হওয়া ৭২ জনের মধ্যে ৬৬ জনের স্বাভাবিক প্রসব হয়। জটিলতার কারণে সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, গর্ভকালীন পরামর্শ, প্রসবপূর্ব সেবা ও দক্ষ মিডওয়াইফদের তত্ত্বাবধান স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। হাসপাতালের মিডওয়াইফ মায়া নুর খাতুন বলেন, ছয়জন মিডওয়াইফ মিলে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। জনবল বাড়ানো প্রয়োজন হলেও তাঁরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া আকলিমা বেগম বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় তিনি কোনো খরচ ছাড়াই হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিতে পেরেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করেই সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বর্তমানে সিজারিয়ান সেবা চালু রাখা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা আইরিনকে গত ২৭ জুন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আলমগীর কবির বলেন, রোগীর তুলনায় জনবল কম। অ্যানেসথেসিওলজিস্টের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বর্তমানে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট সপ্তাহে দুদিন এসে সিজারিয়ান সেবা দিতেন। স্থায়ীভাবে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নিয়োগ হলে সেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও ছয় মাসে ৪১৩টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। গাইনি বিশেষজ্ঞ বদলি হওয়ায় বর্তমানে সিজারিয়ান সেবা বন্ধ রয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হাসপাতালের প্রসূতি সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত