ধোপাজান নদী বালি পাথর মহাল ইজারা না হওয়ায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার
আল হেলাল,সুনামগঞ্জ
দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ইজারা হচ্ছেনা ধোপাজান চলতি নদী বালি পাথর মহাল। ফলে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের টাকা রাজস্ব। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে মহালটি। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-৩ শাখা হতে সহকারী সচিব বেগম সায়রা আক্তার ২৮.০০.০০০০.০২৮.৫৪.০২০.১৮.১২২ নং স্মারকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কে সুনামগঞ্জ জেলাধীন ধোপাজান নদীর বালুমিশ্রিত পাথর অপসারণের বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে পত্র প্রেরণ করেন। ঐ পত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, “সুনামগঞ্জ জেলার সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন ধোপাজান একটি গেজেটভূক্ত পাথর কোয়ারি। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ১৮-২-২০২০ইং তারিখের ২৮.০০.০০০০.০২৮.৩৫.০৩১.১৪ (অংশ-১)-১৯ নং স্মারকে সারাদেশের গেজেটভূক্ত পাথর কোয়ারি হতে পাথর উত্তোলন/ইজারা স্থগিত রয়েছে। বর্ণিত পাথর কোয়ারি সংলগ্ন এলাকায় উজান হতে পাহাড়ী ঢল ও বন্যার পানির সাথে আসা বালু, কোয়ারি এলাকায় জমার কারণে ধোপাজান নদীতে নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে মর্মে স্থানীয় জনাসাধারনের নিকট হতে জানা যায়। এমতাবস্থায় কোয়ারী সংলগ্ন নদীর নাব্যতা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয়ভাবে কমিটি গঠনপূর্বক নদীর বিদ্যমান প্রবাহ বাধাহীন রেখে বালু অপসারণের ব্যবস্থাগ্রহন এবং অর্জিত রয়্যালিটি খনি ও খনিজ বিধিমালা ২০১২ অনুযায়ী সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো”। কিন্তু উর্ধতন কর্তৃপক্ষের এ আদেশ এখনও কার্যকর করেনি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এবং এজন্য অনেকেই সাবেক জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া
(পরিচিতি নং ১৫৯০৭) কে দায়ী করেছেন। অভিযোগ রয়েছে ডিসি ইলিয়াস মিয়া,ধোপাজান চলতি নদী বালিমহাল ইজারাদান কার্যক্রম স্থগিত রেখে চালু হওয়া যাদুকাটা নদী বালিমহালের ইজারাদার ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবং রাতের অন্ধকারে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মইনপুর গ্রাম সংলগ্ন ক্রাসার মেশিন ঘাট দিয়ে পাথর পাচারকারী সিন্ডিকেট, ধোপাজান হতে সুরমা নদীপথে বের হওয়া বালির নৌকার চোরাকারবারী ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম ডলুরা হতে আব্দুজ জহুর সেতু দিয়ে বালিবাহী ট্রাক পাচারে সহায়তা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মোটা অংকের টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিতেন। এতে তিনি ব্যক্তিগত লাভবান হলেও সরকার হারাত তার ন্যায্য রাজস্ব। এছাড়া ধোপাজান লীজ দেননি দাবী করে তৎকালীন অন্তবর্তীকালিন সরকারের একজন মহিলা উপদেষ্টারও বিশেষ আনুকূল্যও লাভ করেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা আফরিন মুস্তাফা স্বাক্ষরিত (২৮.০০.০০০০.০২৮.৩১..০০৪.১৮.১২) স্মারকে বর্ণিত পূর্বের আদেশটি বাতিল করে (দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা ধোপাজানসহ সিলেট অঞ্চলের আটটি বালুপাথর মহাল নতুন করে ইজারা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে গেজেটভুক্ত কোয়ারিসমূহের ইজারা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে এ বিভাগের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখের ২৮.০০.০০০০.০২৮.৩১.০০৪.১৮.১২ (অংশ-১) ১৯ নম্বর স্মারকে, “সারা দেশের গেজেটভুক্ত পাথর কোয়ারি, সিলিকা বালু কোয়ারি, নূরীপাথর, সাদা মাটি উত্তোলনসহ অন্যান্য সকল কোয়ারির ইজারা আপাতত: বন্ধ থাকবে মর্মে গৃহীত সিদ্ধান্তটি, এতদ্বারা নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো”। এর অনুলিপি সকল বিভাগীয় কমিশনার এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবরও পাঠানো হয়। ফলে সুনামগঞ্জসহ সারাদেশ বন্ধ থাকা সকল পাথর ও বালি মহাল থেকে পাথর, বালু, সাদামাটি উত্তোলনে আইনগত বাধা বন্ধ হয়। ঐসময় সবকয়টি মহাল ইজারা হলেও ব্যক্তিগত আক্রোশে ধোপাজান চলতি নদী মহালটি ইজারা দেননি সাবেক জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এর মূলকারণ হিসেবে অনেক বলেন,জেলার যাদুকাটা নদী বালি মহালের কতিপয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও ইজারাদাররের স্বার্থেই ধোপাজান চলতি নদী ইজারা প্রদান থেকে জেলা প্রশাসক বিরত থাকেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলের বালি পাথর উত্তোলন। দীর্ঘদিন অচলাবস্থা থাকায় কোয়ারি নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে নানা কায়দায় চলে বালুপাথর লুটপাট। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বালু পাথর লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। এতে সরকারও বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া কোয়ারি বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক। মানবেতর জীবনযাপন করছেন কোয়ারির সাথে জড়িত পাথর ও পরিবহন ব্যবসায়ী, বেলচা, বারকি, পরিবহন ও লোড-আনলোড শ্রমিকরা। এই ইস্যুতে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন,প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তারা। তারপরও প্রশাসনের টনক নড়েনা।
সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাসির মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৮টি বছর বালি পাথর মহাল খোলা না রাখায় শুধু এলাকাবাসীই ক্ষতিগ্রস্থ হননি বরং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সরকারও। লাভবান হয়েছে চিহ্নিত চোরাকারবারী সিন্ডিকেট। তারপরও আমরা চাই, লুটপাটকারীর অপরাধে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কর্মহীন না রেখে অবিলম্বে মহালটি ইজারা প্রদান করা হউক। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে সুনামগঞ্জের বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান (পরিচিতি নং ১৬৪৪৬) এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল (পরিচিতি নং ১৭৭৬২) বলেন, ইতিমধ্যে বালিমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে যা যা করার দরকার জেলা প্রশাসন তার সবকিছু করতে প্রস্তুত
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত