
গাজীপুরে অবৈধ ৩ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে র্যাব ও জেলা প্রশাসনের অভিযান, ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও দুইজনের কারাদণ্ড
এমদাদুল হক
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় লাইসেন্স ও ছাড়পত্রবিহীন তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে র্যাব ও জেলা প্রশাসন।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-নাহিন নিশাতের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
আদালত সূত্র জানায়, র্যাব-১ এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে গড়ে ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বৈধ লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এর মধ্যে গাজীপুর অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৬০ হাজার টাকা এবং কোয়ালিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ছাড়পত্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এক্স-রে মেশিন অপারেট করার অপরাধে এক অপারেটরকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অন্যদিকে, মডেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিজস্ব প্যাডে দেদারসে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ লিখতেন। ভুয়া ডাক্তার সেজে রোগীদের সাথে প্রতারণা ও প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার দায়ে ওই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে ৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সাথে মডেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিকে সম্পূর্ণ সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-নাহিন নিশাত জানান, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এমন প্রতারণা ও অবৈধ বাণিজ্য কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে র্যাব-১ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
সট: গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-নাহিন নিশাত