
মেঘনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও অনিয়মিত সরবরাহের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
মোহাম্মদ আবুল কাশেম সরকার, মেঘনা (কুমিল্লা)
কুমিল্লার মেঘনায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিআরটিসি মোড়ে সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘মেঘনাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বিদ্যুৎ থাকে কম, বিল আসে বেশি। প্রতিবাদ হোক পুরো বাংলাদেশে।’ এছাড়া বিদ্যুতের লুকোচুরি বন্ধের দাবি জানিয়ে লেখা ছিল, ‘বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা—আর কতকাল এই অবহেলা?’

আয়োজকদের অভিযোগ, মেঘনায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম ও ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে। অথচ অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে আসছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ বিলের অসঙ্গতি ও অতিরিক্ত বিলের বিষয়টি তদন্ত করে সমাধান করা এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
মেঘনা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আমির ইসলাম রাহিম বলেন, “ইদানীং মেঘনায় বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। তারপরও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মেঘনার অধিকাংশ মানুষই সাধারণ কর্মজীবী। তারা সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে ঘুমাতে যান। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায়ও চরম অসুবিধা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যাই নয়, বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ নিয়েও গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। কোনো গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে গেলে তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয় না, বরং ধমক দিয়ে বিদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনও অভিযোগ আছে, সারা মাস বন্ধ থাকা মিটারেও দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে।”
আমির ইসলাম রাহিম বলেন, “আমরা এসব অনিয়ম থেকে রেহাই পেতে চাই। সারাদিন পরিশ্রম করে একজন মানুষ যেন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।”
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।