রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
চাটখিল ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান ইংলিশ একাডেমি’র কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে সীতাকোট বিহার পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জৈন্তাপুরে বিদেশি অস্ত্র ও লুটের গুলি উদ্ধার জয়পুরহাটে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত মানিকগঞ্জ জাদুঘর প্রাঙ্গণে স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত ‌ আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে জহির উদ্দিন স্বপন সমৃদ্ধ পর্যটন শিল্প গড়তে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা! ঐতিহাসিক ঘোড়াঘাট দুর্গ ও সুজা মসজিদ পরিদর্শন করলেন দুই মন্ত্রী মেঘনায় ১০ ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

উত্তাল পদ্মায় খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপার ॥ দুর্ঘটনার আশঙ্কা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৯ অগাস্ট, ২০২৬



পাবনায় বিআইডব্লিউটিএ এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই
উত্তাল পদ্মায় খেয়া নৌকায় যাত্রী পারাপার ॥ দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কাজী বাবলা, পাবনা:
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী খেয়া নৌকা চলাচল ও টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ এ কার্যক্রমকে অবৈধ উল্লেখ করে পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, কারা যাত্রী পারাপারের নামে টোল আদায় করছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।


সরেজমিনে দেখা যায়, পাবনার নাজিরগঞ্জ এবং রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের মধ্যে প্রতিদিন শত শত যাত্রী নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। যদিও একই নদীপথে সরকারি ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল করছে, তারপরও খেয়া নৌকায় যাত্রী পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত টোলও আদায় করা হচ্ছে। সেখানে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় কোনো বৈধ অনুমোদন বা কার্যকর ইজারা ছাড়াই খেয়াঘাট পরিচালনা করছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে উত্তাল পদ্মা নদীতে এভাবে যাত্রী পারাপার বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল অবৈধ খেয়াঘাট বন্ধে পাবনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। জবাবে গত ১৪ মে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন- যে তারা অবৈধ খেয়াঘাট সম্পর্কে অবগত নয়। এছাড়াও গত ১৬ জুলাই নাজিরগঞ্জ খেয়াঘাট সংক্রান্ত একটি রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সবকিছু উপেক্ষা করেই নাজিরগঞ্জ নদীবন্দরের সীমানার মধ্যে যাত্রী পারাপারের নামে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে।


ঘাটে টোল আদায়কারীদের দাবি, তারা স্থানীয় বিএনপি নেতা ডা. আবদুল সালামের নির্দেশনায় ঘাট চালাচ্ছেন। তবে ডা. আবদুল সালাম বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার্থে যারা নৌকার মালিক তারা এই খেয়াঘাট চালাচ্ছে। এটা আমি লাগাইনি, আমার কি কোনো এখতিয়ার আছে যে আমি সেখানে ঘাট লাগাবো?’
এবিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নাজিরগঞ্জ নৌবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, কে বা কারা নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করছে। তারা অবৈধ টোলও আদায় করছে। এর প্রেক্ষিতে অবৈধ টোল ও যাত্রী পারাপার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা পত্র দিয়েছি। সেই পত্রের উত্তরে জেলা প্রশাসক জানিয়েছে, এই টোল বা যাত্রী পারাপারে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকার দায়বদ্ধ। আমরা খুব শিগগিরই সেখানে স্থানীয় যে প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তবিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া নেব।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews