
কালিগঞ্জে বৃদ্ধাকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
তরিকুল ইসলাম,
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৫৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারীকে লাঠি দিয়ে মারধর, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে মো. রেজাউল গাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. হালিমা খাতুন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শুইলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোছা. হালিমা খাতুন স্বামী মো. রাজ্জাককে নিয়ে শুইলপুর এলাকায় বসবাস করেন। তার ছেলে সচিবালয়ে চাকরি করায় কর্মস্থলে অবস্থান করেন। ফলে তিনি অধিকাংশ সময় বাড়িতে একাই থাকেন। অভিযুক্ত রেজাউল গাজী তার বাড়ির ওপর দিয়ে নিজস্ব ঘেরে যাতায়াত করেন। নিরাপত্তার কারণে হালিমা বাড়িতে না থাকলে গেট বন্ধ রাখেন। এ নিয়ে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে উসকানিমূলক ও অশালীন আচরণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়ির পাশে একটি দোকানে বড় একটি মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন রেজাউল। ওই সময় হালিমা সাধারণভাবে দোকানদারকে বলেন, এত বড় মাছ কার কাছে বিক্রি করবেন—যে কিনবে, সে হয়তো বাকিতে চাইবে। তবে ওই সাধারণ মন্তব্যকে নিজের প্রতি নিয়ে রেজাউল তার ওপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ করেন হালিমা।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে হালিমা বাড়িতে নামাজরত অবস্থায় ছিলেন। এ সময় রেজাউল তাকে বাড়ি থেকে ডেকে রাস্তায় নিয়ে যান। পরে হাতে থাকা জিবলির কোচা/লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বৃদ্ধা নারীকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে থানায় অভিযোগ করার কথা জানালে অভিযুক্ত পুলিশ তাকে কিছুই করতে পারবে না বলে হুমকি দেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় হালিমা খাতুন বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভবিষ্যতে অভিযুক্ত তার আরও ক্ষতি করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মোছা. হাসিনা বেগম ও মো. খাইরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় অন্যান্য ব্যক্তিরাও সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্ত মো. রেজাউল গাজীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।