
নিষিদ্ধ জালের ছোবলে হাকালুকি হাওর, অবাধে চলছে দেশীয় মাছ নিধনের মহা-উৎসব
আলী উবায়েদ ইমন,মৌলভীবাজার :
এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে বর্ষা মৌসুমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার চলছে। এতে ডিমওয়ালা মাছ, রেণু ও পোনা নিধনের পাশাপাশি হাওরের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চৌলরকান্দি জলাসহ হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ঘেরজাল, ফাঁদজাল, চায়না জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এমনকি অভয়াশ্রমসংলগ্ন এলাকাতেও জাল পেতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা গেছে। এসব নিষিদ্ধ জালে বড় মাছের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক রেণু, পোনা ও ছোট মাছ আটকা পড়ছে।
বর্ষাকাল দেশীয় ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের ফলে প্রজননক্ষম মাছ, রেণু ও পোনা নিধন হচ্ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে হাওরের মৎস্যসম্পদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা হাওর রক্ষা কমিটির সদস্য আব্দুল হাফিজ চৌধুরী বলেন, “হাকালুকি হাওরে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বড়লেখা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, “অবৈধ মাছ শিকারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, নিয়মিত অভিযান, জাল জব্দ ও ধ্বংস এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার হাকালুকি হাওর রক্ষায় এখনই কার্যকর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা না হলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও অস্তিত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।