রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

‎রংপুরে ভূয়া লাইসেন্সে অস্ত্র সরবরাহ: প্রতারণার শিকার হয়ে জেল খেটেছেন বৃদ্ধ কর আইনজীবী

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

রংপুরে ভূয়া লাইসেন্সে অস্ত্র সরবরাহ: প্রতারণার শিকার হয়ে জেল খেটেছেন বৃদ্ধ কর আইনজীবী

‎‎সানোয়ারুল ইসলাম সোহান, রংপুর

‎‎অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য পরিচয়ে গড়া অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ভূয়া ও জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে অস্ত্র হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এতে বলির পাঁঠা হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাস, আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিকভাবে চরম লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন রংপুরের ৭০ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ কর আইনজীবী ও সরকারি অনুমোদিত অস্ত্র ডিলার আনোয়ার হোসেন বাবু।

‎‎সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের নির্দোষিতার কথা তুলে ধরে এই প্রতারণার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগে জানা যায়, রংপুর মেট্রো কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা ও সরকারি নিবন্ধিত অস্ত্র ডিলার আনোয়ার হোসেন বাবুর সাথে কয়েক বছর আগে মিঠাপুকুর থানার শংকরপুর (বালারহাট) গ্রামের মৃত নসিম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে রেজ্জাকুল ইসলাম তুহিন (৪৫)-এর পরিচয় হয়। নিজেকে সাবেক সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া তুহিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চলাফেরার সূত্রে একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

‎‎আনোয়ার হোসেন বাবু জানান, তাঁর বৃদ্ধ বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তুহিন ধীরে ধীরে ব্যবসার অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় জেনে নেন। পরবর্তী সময়ে তুহিন বিভিন্ন ব্যক্তির অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে এসে তাঁর কাছ থেকে বৈধ প্রক্রিয়ায় অস্ত্র সংগ্রহ করতে থাকেন। লাইসেন্সের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তুহিন নিজেকে শনাক্তকারী হিসেবে দাবি করে কাগজপত্র সম্পূর্ণ সঠিক ও বৈধ বলে আশ্বস্ত করতেন। ভুক্তভোগী ডিলারের অভিযোগ, তাঁর সরলতা ও অসুস্থতাকে কাজে লাগিয়ে তুহিন একটি গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বোনেন। নামমাত্র মূল্যে (আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে) জাল লাইসেন্সের বিপরীতে একাধিক অস্ত্র সংগ্রহ করে নেন তুহিন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে বের হয়ে আসে চরম সত্য তুহিনের উপস্থাপন করা একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল সম্পূর্ণ ভূয়া ও ভুয়া কাগজপত্রে তৈরি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশি পদক্ষেপে মূল ষড়যন্ত্র এড়িয়ে উল্টো আইনি জটিলতায় পড়েন এই বয়োবৃদ্ধ ডিলার। জাল লাইসেন্স সম্পর্কে কোনো পূর্ব ধারণা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেফতার হতে হয় এবং দীর্ঘদিন জেল খাটতে হয়।

‎‎ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা প্রকাশ করে আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন,আমি জীবনের দীর্ঘ সময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে আইন মেনে ব্যবসা ও আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তুহিন নামের ওই প্রতারক আমার বার্ধক্য ও অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে আমাকে এই ভয়াবহ বিপদে ঠেলে দিয়েছে। আমি নিজে এই প্রতারণার শিকার, অথচ আমাকেই কারাবরণ করতে হয়েছে এবং সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হয়েছে। নিজের জবানবন্দিতে সততার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে প্রবীণ এই নাগরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পুনঃতদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।‎তিনি চান, আসল তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী রেজ্জাকুল ইসলাম তুহিনসহ এই চক্রের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি একজন নির্দোষ ও প্রতারণার শিকার নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার পান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews