প্রাইভেট মাদ্রাসার মর্যাদা রক্ষা ও গুণগত মানোন্নয়নে ১৮ দফা সুপারিশ উপস্থা
নিজস্ব প্রতিনিধ ঢাকা :
দেশের আলিয়া, কওমি, হিফজ ও নুরানীসহ সকল প্রাইভেট দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা, শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ১৮ দফা সুপারিশ পেশ করেছে ‘বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এসব সুপারিশ ও দাবি তুলে ধরা হয়।
‘বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের বরেণ্য আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, নীতি নির্ধারক, গবেষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন।
প্রধান অতিথি ও বক্তাদের বক্তব্য
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন-নদভী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ১৮ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা জাফর আহমদ মজুমদার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বকসী। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন হাফেজ কারী মাওলানা মো: আবুল হোসাইন, কারী শাইখ জহিরুল ইসলামসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশি প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে নৈতিক চরিত্রগঠন, ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও গবেষণায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সফলতা দেশের গৌরব।”
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সমগ্র মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে কেউ নয়; কোনো প্রতিষ্ঠানে অপরাধের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় পুরো মাদ্রাসা ব্যবস্থার ওপর চাপানো ন্যায়সঙ্গত নয়।
প্রধান দাবিসমূহ (১৮ দফার উল্লেখযোগ্য):
১. যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলোকে "বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড"-এর অধীনে দ্রুত নিবন্ধন ও EIIN নম্বর প্রদান করা।
২. শর্তসাপেক্ষে ভাড়া ভবনে পাঠদানের অনুমোদন, একাডেমিক স্বীকৃতি এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নামে সনদ প্রদানের সুযোগ তৈরি করা।
৩. আলিয়া, কওমি, নুরানী ও হিফজ মাদ্রাসার জন্য একটি সমন্বিত, স্বচ্ছ ও অভিন্ন জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৪. শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা এবং বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৫. শিক্ষকদের জন্য শিশু মনোবিজ্ঞান, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, আইনি সচেতনতা ও প্রযুক্তির ওপর সরকারি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৬. কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
৭. তথ্য প্রযুক্তি ও কম্পিউটার সরঞ্জাম সরবরাহ করে প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয় শিক্ষার মূলধারার অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করা।
দায়িত্বশীল ভূমিকা ও আত্মসংস্কারের আহ্বান
সংগঠনটি গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সন্তানের শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া সেমিনার থেকে প্রাইভেট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য ১২ দফা আত্মসংস্কারমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রতিটি মাদ্রাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, শিক্ষক নিয়োগে চারিত্রিক সনদের কড়াকড়ি, শারীরিক/মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধকরণ এবং আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
সেমিনারের সভাপতি ও মূল বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার, গণমাধ্যম, প্রশাসন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ একসাথে কাজ করলে একটি নিরাপদ, আধুনিক, শিক্ষাবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উন্নয়নমূলক ধারা ভবিষ্যতে ইউনিয়ন ও তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন নেতৃবৃন্দ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত