আবাসিক হোটেলে যৌনকর্মে জড়িত নারীরা: কেন এই পথে!
অর্ণব রায়,
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই গড়ে উঠেছে একটি অদৃশ্য যৌনবাণিজ্যের নেটওয়ার্ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন এবং গবেষণা বলছে—এই জগতে থাকা সব নারী একই কারণে এখানে আসেন না। বরং তাদের জীবনের গল্পগুলো ভিন্ন, জটিল এবং প্রায়শই বেদনাদায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; বরং দারিদ্র্য, প্রতারণা, মানবপাচার, পারিবারিক সহিংসতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মতো নানা কারণ একত্রে কাজ করে।
প্রধান কারণগুলো:
১. চরম দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকট
অনেক নারী পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের চিকিৎসা বা ঋণের চাপ সামলাতে অন্য কোনো আয়ের পথ না পেয়ে এই পেশায় জড়িয়ে পড়েন।
২. মানবপাচার ও প্রতারণা
চাকরির প্রলোভন, বিয়ের আশ্বাস বা বিদেশে কাজের সুযোগ দেখিয়ে অনেক নারীকে ঢাকায় এনে জোরপূর্বক যৌনবাণিজ্যে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ বহু গবেষণায় উঠে এসেছে।
৩. পারিবারিক সহিংসতা ও বিচ্ছেদ
স্বামীর নির্যাতন, তালাক, পরিবার থেকে বিতাড়ন বা আশ্রয়হীন হয়ে পড়া অনেক নারী বেঁচে থাকার শেষ উপায় হিসেবে এই পথে যেতে বাধ্য হন।
৪. সীমিত শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
দক্ষতা ও শিক্ষার অভাবে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় অনেকের সামনে বিকল্প পথ সংকুচিত হয়ে যায়।
৫. দালাল ও সংঘবদ্ধ চক্রের প্রভাব
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কিছু সংঘবদ্ধ চক্র অসহায় নারীদের টার্গেট করে এবং ভয়ভীতি, ঋণের ফাঁদ বা জবরদস্তির মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মত:
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমস্যাটিকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমাধান হবে না। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থান, মানবপাচার প্রতিরোধ, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি জোরদার করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত