শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ঘোড়াঘাটে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বোচাগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কবিতা/শিক্ষার পরিচয়/লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন! বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়া ৩ কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে ৪ দিন পর উদ্ধার “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস” উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ  দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে —জহির উদ্দিন স্বপন টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন! কালাইয়ে সমবায়ীদের অংশগ্রহণে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কারিগরি শিক্ষায় বৈষম্য নিরসন ও মানোন্নয়নে ১০ দফা দাবি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ অগাস্ট, ২০২৬



কারিগরি শিক্ষায় বৈষম্য নিরসন ও মানোন্নয়নে ১০ দফা দাবি শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের

​বিশেষ প্রতিনিধি:

কারিগরি শিক্ষাকে জাতীয়করণের আওতাভুক্ত করা, বেতন-ভাতা বৈষম্য দূরীকরণ এবং এর মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা মূল চালিকাশক্তি হলেও এ খাতটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার।

​প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

​কারিগরি শিক্ষার বর্তমান চিত্র ও বৈষম্য

​সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে প্রায় ১২,০০০-এরও বেশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োজিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সময়মতো বেতন-ভাতা পান না। বিএড ও উচ্চতর স্কেল পেতে বছরের পর বছর অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের দুয়ারে ঘুরতে হয়। এর ফলে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে কারিগরি শিক্ষার হার ৬০% থেকে ৭০% পর্যন্ত হলেও বাংলাদেশে এ হার মাত্র ১৭%। পর্যাপ্ত বাজেট, আধুনিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষা প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

​১০ দফা মূল দাবি সমূহের সারসংক্ষেপ:

​১. জাতীয়করণ ও আন্তঃবদলি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমুদয় আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিয়ে সমগ্র কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা এবং শিক্ষকদের সুবিধার জন্য আন্তঃবদলির ব্যবস্থা করা।

২. উচ্চ শিক্ষা ও স্কেল: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল ও টাইমস্কেল প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন।

৩. প্রশাসনিক পদে টেকনিক্যাল ব্যক্তিদের পদায়ন: কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও অন্যান্য প্রশাসনিক পদে সাধারণ ক্যাডারের পরিবর্তে কারিগরি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পদায়ন নিশ্চিত করা।

৪. ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্ট প্রথার বৈষম্য দূর করা।

৫. ল্যাব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা: আধুনিক ল্যাব স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক ওয়ার্কশপ সুবিধা সুনিশ্চিত করা।

৬. উপবৃত্তি ও সহায়তা: শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির হার বৃদ্ধি ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।

৭. শিক্ষক পদে নিয়োগের যোগ্যতা সুনির্দিষ্টকরণ: সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভোকেশনাল) ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বাধ্যবাধকতামূলক করা।

৮. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: জরাজীর্ণ ল্যাব ও ওয়ার্কশপ সংস্কার করে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা।

৯. পৃথক কারিগরি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন: কারিগরি শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন বিষয়ক এনটিআরসিএ বা সমমানের পৃথক কমিশন গঠন।

১০. বাজেট বৃদ্ধি: মোট শিক্ষা বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে বরাদ্দ করা।

​পরিষদের আকুল আবেদন

​সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের কারিগরি খাত আরও দক্ষ জনশক্তি উৎপাদনে সক্ষম হবে। তারা দ্রুততম সময়ে ১০ দফা দাবি মেনে নিয়ে কারিগরি শিক্ষাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews