লিথি গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকদের আইনি পাওনা মেটানোর দাবি: মন্ত্রণালয়ের স্থগিত সভা আহ্বানের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
লিথি গ্রুপের বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫টি কারখানার হাজারো শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা নির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ ও সংশয় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা। স্থগিত হয়ে যাওয়া সভা পুনরায় আহ্বান করে দ্রুত পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করার দাবিতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকেরা জানান, লিথি গ্রুপের ৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনানুগ পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এর ফলে তাদের পরিবার চরম মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত নিয়ে প্রশ্ন
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা নির্ধারণের লক্ষ্যে ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুনরায় সভা ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্ধারিত সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।
শ্রমিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন—
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেন বাস্তবায়ন হলো না?
কার স্বার্থে বা কোন কারণে পাওনা নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া থমকে গেল?
'সমঝোতা চুক্তি' ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী কারখানা বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে আইনি পাওনা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, শ্রম আইনে নির্ধারিত সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তথাকথিত একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে নোটিশ পে ১৫ দিন এবং সার্ভিস বেনিফিট প্রতি বছরের জন্য ১০ দিনের মূল মজুরির সমপরিমাণ নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এছাড়া, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কার্যালয়ে পাওনা নির্ধারণের আইনি এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও সেখানে চাপ ও প্রভাবের মাধ্যমে একটি সমঝোতা কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন। এ ধরনের ঘটনাকে শ্রমিক অধিকার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।
শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি:
১. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের স্থগিত সভা দ্রুত পুনরায় আহ্বান করতে হবে।
২. ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
৩. বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকদের পূর্ণ আইনানুগ পাওনা নির্ধারণ ও পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. শ্রমিকদের প্রত্যাখ্যাত কোনো চাপিয়ে দেওয়া সমঝোতা চুক্তি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৫. ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কার্যালয়ে সংঘটিত কথিত সমঝোতা প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
৬. আইন লঙ্ঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আবেদন: লিথি গ্রুপের অধিকারবঞ্চিত শ্রমিকবৃন্দ সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের মাধ্যমে হাজারো শ্রমিকের রুটি-রুজির অধিকার নিশ্চিত করার বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত