
কুড়ি সার ডিলারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা,
কোটি টাকার সার অনিয়মের অভিযোগ
শেরপুর প্রতিনিধি:
সরকারি বরাদ্দের সার কালোবাজারে বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরকারের কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে শেরপুর সদর উপজেলার ২০ জন সার ডিলারের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন। শেরপুর সদর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ জুন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ও কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান সরকারি গাড়িযোগে শেরপুর শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের রেজিস্টার ও বিক্রয়ের ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সরকারি বরাদ্দের ৪,৪১২ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার (প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ মেট্রিক টন ডিএপি সার (প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ মেট্রিক টন টিএসপি সার (প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনিয়মে জড়িত। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা অধিক মুনাফার আশায় সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করায় কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
মামলার আসামিরা হলেন— মো. রাসেদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মীর দেলোয়ার হোসেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, ইলিয়াস আলী, তাপস নন্দী, কামরুন নাহার হাসেম, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, রেজাউল করিম, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।
শেরপুর সদর থানার মামলা নং-২৫(১), তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬। থানাসূত্রে জানা গেছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।