চর দখল বিরোধে রণক্ষেত্র মেঘনার চর বিনোদপুর
সশস্ত্র হামলায় নারী নিহত, আহত অর্ধশত; ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি
মোহাম্মদ আবুল কাশেম সরকার ,মেঘনা (কুমিল্লা)
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামে চর দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনায় কোহিনূর বেগম (৩৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ হামলায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
নিহত কোহিনূর বেগম আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী। হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। আহতদের অধিকাংশই চর বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া চরসংক্রান্ত জমি খারিজের আবেদন করতে সোনারচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে তাদের আলীপুর এলাকায় নিয়ে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করলেও পরে এর জের ধরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর চরভাটেরা গ্রামের একদল লোক লুটেরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুরুজ মিয়া, সেকান্দার ও শাহ আলমের নেতৃত্বে চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলাকারীরা টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় শতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট, নারীদের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া এবং গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
চর বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর দাবি করেন, হামলায় অন্তত ১০০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
উল্লেখ্য, মেঘনা নদীর দুই তীরে অবস্থিত তিতাস ও মেঘনা উপজেলার মধ্যবর্তী চরাঞ্চলের মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে গত ১৫ জুন একই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এ রক্তক্ষয়ী হামলার পর পুরো চরাঞ্চলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত