ঢাকা শহরের বর্জ্যজনিত দুর্ভোগ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
ঢাকা শহর বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও দ্রুত বর্ধনশীল মহানগর। দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন কোটি মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে এই মহানগর। কিন্তু যে শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য হওয়ার কথা ছিল, সেই শহর আজ বর্জ্যের চাপে ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। রাস্তাঘাট, অলিগলি, খাল-বিল, নর্দমা, ফুটপাত, এমনকি আবাসিক এলাকার আশপাশেও যত্রতত্র বর্জ্যের স্তূপ এখন যেন এক পরিচিত দৃশ্য। নগরবাসীর কাছে এটি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে যে অনেকেই আর বিস্মিত হন না। অথচ এই স্বাভাবিক হয়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় অস্বাভাবিকতা। একটি আধুনিক রাজধানীতে বর্জ্য কখনোই জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, নাগরিক জীবন এবং নগর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বহুমাত্রিক সংকটে পরিণত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিদিন মানুষ রাজধানীমুখী হচ্ছে। এর ফলে জনসংখ্যার চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া বর্জ্যের পরিমাণও। গৃহস্থালি বর্জ্য, কাঁচাবাজারের জৈব বর্জ্য, প্লাস্টিক, পলিথিন, নির্মাণবর্জ্য, হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্য মিলিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্পত্তির যে সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলস্বরূপ, অনেক এলাকার ডাস্টবিন উপচে পড়ে, নির্ধারিত সময়মতো বর্জ্য অপসারণ হয় না, আর অসচেতন নাগরিকদের একটি অংশ যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ঢাকার বর্জ্য সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যায় বর্ষাকালে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর অন্যতম কারণ হলো প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া। পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়লে অল্প সময়ের বৃষ্টিও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে শুধু যানজটই বাড়ে না, কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হয়। একটি মহানগরের উৎপাদনশীলতা যে সময়ের ওপর নির্ভরশীল, সেই সময়ই জলাবদ্ধতা ও বর্জ্যের কারণে প্রতিনিয়ত অপচয় হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা জনস্বাস্থ্যের জন্যও এক নীরব হুমকি। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, মাছি-মশা ও ইঁদুরের বংশবিস্তার ঘটে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানা সংক্রামক রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য যদি সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশে যায়, তবে তা আরও ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করে। ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, সংক্রমিত উপকরণ বা রাসায়নিক বর্জ্য যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না হলে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত শ্রমিকদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে। আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো প্লাস্টিক দূষণ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার এখন নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাজার থেকে শুরু করে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, অনলাইন বাণিজ্য কিংবা দৈনন্দিন কেনাকাটা, সর্বত্র প্লাস্টিকের আধিপত্য। অথচ এই প্লাস্টিক সহজে পচে না। বছরের পর বছর পরিবেশে থেকে এটি মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। ড্রেন ও খালে জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত নদীতে গিয়ে জলজ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিক দূষণ ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বর্জ্য সমস্যার সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্কও গভীর। অপরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। পর্যটন, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নগরজীবনের মান সবকিছুই এর দ্বারা প্রভাবিত হয়। জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, রোগব্যাধির কারণে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস জাতীয় অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ বর্জ্য শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্জ্যজনিত সংকটের জন্য কেবল সিটি করপোরেশন বা সরকারি সংস্থাকে দায়ী করলে পুরো সত্য বলা হবে না। নাগরিকদের দায়িত্ববোধের ঘাটতিও কম নয়। অনেকেই নির্ধারিত সময় বা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলেন না। রাস্তা, ফুটপাত, খাল কিংবা খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলে নগরের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করেন। আবার নির্মাণকাজের বর্জ্যও অনেক সময় সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়, যা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। ফলে অসচেতনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আধুনিক রাজধানী কি এমন বর্জ্যনির্ভর দুর্ভোগের সঙ্গে বসবাস করতে পারে? বিশ্বের অনেক বড় শহর জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকার চেয়েও বড়, কিন্তু সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিক সচেতনতার কারণে তারা বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। ঢাকা কেন সেই পথে এগোতে পারবে না? উত্তর অবশ্যই ইতিবাচক, তবে তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সর্বোপরি নাগরিক অংশগ্রহণ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব। নগর পরিকল্পনা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য উৎপাদনের হার পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হলেও বাস্তবে এসব বিষয়কে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের নজির খুব বেশি দেখা যায় না। শহরের নতুন নতুন আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্র কিংবা শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, পুনর্ব্যবহার ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের একটি অংশ নিয়মিত অপসারণ হলেও বাকি অংশ বিভিন্ন স্থানে জমে থেকে পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অনেক উন্নত নগর বর্জ্যকে আর বোঝা হিসেবে দেখে না, বরং অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইডেন কিংবা জার্মানির মতো দেশগুলো উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথকীকরণকে বাধ্যতামূলক করেছে। জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট ও বায়োগ্যাস উৎপাদন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, কাগজ ও ধাতু পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অবশিষ্ট বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমিয়েছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক মূল্যও সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশেও এমন উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন কেবল পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।ঢাকার জন্য প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ বাধ্যতামূলক করা। প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার, রেস্তোরাঁ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জৈব, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সহজে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে এবং চিকিৎসা কিংবা রাসায়নিক বর্জ্য সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে না। নাগরিকদের এই অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় আইনি বাধ্যবাধকতা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করার সময় এসেছে। স্মার্ট ডাস্টবিন, জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত বর্জ্যবাহী যান, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। নাগরিকরাও মোবাইল অ্যাপ বা হটলাইনের মাধ্যমে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে রাখা কিংবা নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ার বিষয়ে দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারবেন। এতে জবাবদিহিতা যেমন বাড়বে, তেমনি সেবার মানও উন্নত হবে। প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ অপরিহার্য। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে। পাট, কাগজ, কাপড় কিংবা জৈবভাবে পচনশীল উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের পণ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। উৎপাদক, ভোক্তা এবং প্রশাসনের যৌথ অংশগ্রহণ ছাড়া প্লাস্টিক দূষণ কমানো সম্ভব নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইন প্রয়োগের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা, খাল-নদীতে ময়লা নিক্ষেপ, নির্মাণবর্জ্য সড়কের পাশে ফেলে রাখা কিংবা চিকিৎসাবর্জ্য অনিয়মিতভাবে অপসারণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল কিংবা প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রবণতা কমানো সম্ভব। তবে শাস্তির পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভয় দেখিয়ে সাময়িক পরিবর্তন আনা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণই স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে পারে সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক। প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত বর্জ্যবাহী যান, ট্রান্সফার স্টেশন, রিসাইক্লিং কেন্দ্র এবং বৈজ্ঞানিক ল্যান্ডফিল ছাড়া এই বিশাল নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। এক সংস্থার কাজ অন্য সংস্থার পরিকল্পনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে নগর ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতাও এই সংকট মোকাবিলার অন্যতম ভিত্তি। বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দিতে হবে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নাগরিক সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিচ্ছন্ন শহর কেবল সরকারের উদ্যোগে গড়ে ওঠে না; এটি নাগরিক সংস্কৃতিরও প্রতিফলন। পরিচ্ছন্ন নগর শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। একটি পরিচ্ছন্ন শহর বিনিয়োগ আকর্ষণ করে, পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়ায়, নাগরিকের জীবনমান উন্নত করে এবং স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে সহায়তা করে। বিপরীতে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি শহরের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করে। বর্জ্যকে সমস্যা নয়, বরং সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। যে বর্জ্য আজ রাস্তায় পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেটিই হতে পারে জৈব সার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল কিংবা বিদ্যুতের উৎস। বিশ্বের বহু দেশ এই পথেই সফল হয়েছে। বাংলাদেশও সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং সুশাসনের সমন্বিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়। ঢাকা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাজধানী হওয়ার স্বপ্ন অনেক দিনের। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংস্কার আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনের কঠোর প্রয়োগ, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি নাগরিক দায়িত্ববোধের বিকাশ। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ মানুষ যদি নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, তবে বর্জ্যের বর্তমান সংকট অনেকাংশেই নিরসন করা সম্ভব। একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা কেবল নান্দনিক নগরের প্রতীক হবে না, এটি হবে সুস্থ, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই বাংলাদেশেরও প্রতিচ্ছবি। তাই বর্জ্যজনিত দুর্ভোগ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত