শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঘোড়াঘাটে বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বোচাগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কবিতা/শিক্ষার পরিচয়/লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও বর্বরোচিত নির্যাতন! বান্দরবানে নিখোঁজ হওয়া ৩ কিশোরী চট্টগ্রাম থেকে ৪ দিন পর উদ্ধার “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস” উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ  দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে —জহির উদ্দিন স্বপন টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন! কালাইয়ে সমবায়ীদের অংশগ্রহণে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ব্যর্থতা পেরিয়ে সফলতা: দিনাজপুরে ইনকিউবেটরে ফুটল উটপাখির বাচ্চা !

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬



ব্যর্থতা পেরিয়ে সফলতা: দিনাজপুরে ইনকিউবেটরে ফুটল উটপাখির বাচ্চা !

 

​আব্দুস সালাম, দিনাজপুর :

 

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফলভাবে উটপাখির ডিম থেকে সুস্থ বাচ্চা ফুটানো সম্ভব হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার একটি বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র ‘দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক’-এ এই ঘটনা ঘটে। কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির (ইনকিউবেটর) মাধ্যমে মোট ৭টি বাচ্চা ফুটলেও বর্তমানে ৬টি বাচ্চা সুস্থ রয়েছে, যাদের বয়স প্রায় দেড় মাস। গবেষক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা এটিকে দেশের পোল্ট্রি শিল্প ও বাণিজ্যিক খামার সম্প্রসারণে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে ঢাকা থেকে এক জোড়া উটপাখি আনা হয়। পাখি দুটি ২৪টি ডিম পাড়ার পর সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ডিমগুলোর মধ্যে ৫টি দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের গবেষণাগারে এবং ২টি পার্কের নিজস্ব ইনকিউবেটরে রাখা হয়।

৪৫ দিনের ইনকিউবেশন প্রক্রিয়া শেষে গত ২৪ মে ৭টি বাচ্চা ফোটে। পার্কের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার রইচ উদ্দীন মিঞা বাবুল এবং কৃষিবিদ মোর্শেদা বেগম লুপু বাচ্চাগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করছেন। সম্প্রতি উটপাখি দুটি আরও ৮টি ডিম দিয়েছে, যা বর্তমানে ইনকিউবেটরে রয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখান থেকেও বাচ্চা ফোটার আশা করা হচ্ছে। হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগ ২০২০ সাল থেকে দেশে উটপাখির বংশবৃদ্ধির সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ইতিপূর্বে ২০২১ সালে ১৯টি, ২০২২ সালে ৩৬টি এবং ২০২৩ সালে বিভিন্ন ধাপে বেশ কিছু ডিম ইনকিউবেটরে স্থাপন করা হলেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালে একটি বাচ্চা ফুটলেও তা কিছুদিন পর মারা যায়।

পূর্বের ব্যর্থতাগুলো কাটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৬ বছরের গবেষণায় এবারই প্রথম বাচ্চাগুলোকে দেড় মাস পর্যন্ত সুস্থ ও জীবিত রাখা সম্ভব হয়েছে। হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদুল ইসলাম জানান: দেশে উটপাখির প্রজনন নিয়ে আগের কয়েক দফা চেষ্টা সফল না হলেও এবার সুস্থ বাচ্চা ফোটানো এবং সেগুলোকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এটি আমাদের গবেষণায় একটি বড় অগ্রগতি। সাধারণত একটি উটপাখি মৌসুমে ৬০ থেকে ৮০টি ডিম দেয় এবং ৪২-৪৫ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ থেকে একটি উটপাখির বাচ্চা আমদানি করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

দেশেই যদি উটপাখির সফল প্রজনন ও বাচ্চা উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়, তবে আমদানি নির্ভরতা কমবে। এটি দেশের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে একটি নতুন ও লাভজনক বাণিজ্যিক উৎস হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, দেশে এর আগে উটপাখির বাচ্চা ফুটলেও তা এক সপ্তাহের বেশি টেকানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার দেড় মাস পার হওয়ায় এই গবেষণা সফলতার মুখ দেখছে বলে তারা আশাবাদী। সম্প্রতি দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্কটি পরিদর্শন করে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দেশীয় প্রাণিসম্পদ খাতে উটপাখির বংশবিস্তার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মত প্রকাশ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews