
মেঘনায় নিউ আল-শেফা হাসপাতালে অভিযান: ১ লাখ টাকা জরিমানা, ওটি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ সিলগালা
মো. আবুল কাশেম সরকার মেঘনা (কুমিল্লা) :
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর বাজারে অবস্থিত নিউ আল-শেফা জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলগালা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলিন রাজ্জাক-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান। এছাড়া স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. এবাদুল হক ও ইব্রাহীম খলিল উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেঘনা থানা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটির লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন করা হয়নি। পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, সেখানে কোনো মেডিকেল অফিসার কর্মরত নেই। এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই আল্ট্রাসনোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এছাড়া অপারেশন থিয়েটার ও লেবার রুমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত মানসম্মত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধারও ঘাটতি পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের ফলে রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুযায়ী হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার ও আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ সিলগালা করা হয়। প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই বিভাগের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলিন রাজ্জাক বলেন, “জনগণের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। স্বাস্থ্যসেবার নামে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা কিংবা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।” স্থানীয় সচেতন মহল এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো আরও দায়িত্বশীলভাবে সেবা দিতে বাধ্য হবে।