নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংকটে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘ঝুড়ির নাড়ু, শিল্প !
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর :
বাঙ্গালীর আবহমান সংস্কৃতির অন্যতম এক ঐতিহ্য ‘ঝুড়ির নাড়ু’। কালের বিবর্তনে এই লোকজ খাদ্যশিল্পটি প্রায় বিলুপ্তির পথে বসলেও, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ‘নলদিঘী মাটিয়ান’-এ এখনো টিকে রয়েছে এর গৌরবময় ঐতিহ্য। তবে বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কাঁচামালের চড়া মূল্যের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন এই শিল্পের কারিগরেরা। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই এই ancestral বা পৈতৃক পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নলদিঘী মাটিয়ান গ্রামে প্রায় ১০০টি পরিবারের বসবাস, যার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস এই ঝুড়ির নাড়ু তৈরি। সরজমিনে গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোর থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন নাড়ু তৈরির কাজে। প্রথমে আতপ চালের আটা থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ‘ঝুড়ি’ তৈরি করে তা সেদ্ধ করা হয়। এরপর সেই ঝুড়ি কড়া রোদে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া হয়। শুকানো ঝুড়ি চালনি দিয়ে চেলে মোটা ও চিকন দানা আলাদা করা হয়। সবশেষে বালুতে ভেজে গুড়ের শিরায় পাকিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু ‘ঝুড়ির নাড়ু’। স্থানীয় কারিগর ও গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বংশপরম্পরায় তারা এই পেশা ধরে রেখেছেন। উৎপাদিত এই নাড়ু সাইকেল ও ভ্যানযোগে জেলা শহরসহ আশেপাশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চিনি, গুড় ও চালসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সেই তুলনায় নাড়ুর দাম না বাড়ায় এখন আর আগের মতো লাভ হচ্ছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থনৈতিক কষ্টে দিন কাটছে এই পেশার সাথে যুক্ত মানুষদের। লাভ না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্পটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ঝুড়ির নাড়ুর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্পকে বাঁচাতে হলে কারিগরদের জন্য স্বল্প সুদে সরকারি ও বেসরকারি ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। আর্থিক সহায়তা ও সঠিক বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে এই শিল্পের সাথে যুক্ত পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং বাঙালির এই ঐতিহ্যটি টিকে থাকবে। নলদিঘী মাটিয়ান গ্রামের এই প্রাচীন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত