
মেঘনায় শিক্ষিকার বাসায় দুঃসাহসিক চুরি: ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার খোয়া, যুবক কারাগারে !
মো. আবুল কাশেম সরকার, মেঘনা (কুমিল্লা):
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার বাসায় দিনের বেলায় সংঘটিত দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে চুরি হওয়া প্রায় ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মেঘনা থানায় দায়ের করা মামলা নং-০৩, তারিখ ২ জুলাই ২০২৬ (পেনাল কোডের ৩৮০/৪৫৪ ধারায়) গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. রাব্বি (১৯)। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাটেরচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের শাহজাহান বেপারীর ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী একজন স্বাস্থ্য সহকারী এবং তার স্ত্রী স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। গত ১ জুলাই সকালে তারা কর্মস্থলে এবং সন্তানরা বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার পর বাড়িটি ফাঁকা ছিল। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বসতঘরের পূর্ব পাশের দরজার খিল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে কাঠের আলমারির তালা ভেঙে সেখানে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি ওজনের তিনটি স্বর্ণের চেইন, তিনটি আংটি ও দুই জোড়া কানের দুল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক প্রতিবেশী অভিযুক্ত রাব্বিকে বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখে তার উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি পায়খানায় যাওয়ার কথা বলেন। পরে আরও দুই প্রতিবেশী তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখে শনাক্ত করেন।
দুপুরে বাদীর ছেলে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে বাদী ও তার স্ত্রী বাড়িতে এসে আলমারির তালা ভাঙা এবং স্বর্ণালংকার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর মেঘনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) আকতারুজ্জামান আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে বা কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেন। ফলে এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
মেঘনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।