১১ দফা দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিল 'বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদ'
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম রনি স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণে একগুচ্ছ দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপির মূল বক্তব্য
স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন, কবরস্থানে আক্রমণ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক।
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে কিছু নামসর্বস্ব ও দুর্বল সংগঠন তৈরি হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তার বিপরীতে 'বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদ' সম্পূর্ণ নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শক্তিকে এক ছাতার নিচে এনে স্বাধীনতা বিরোধী ও অপশক্তিকে নির্মূল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উত্থাপিত ১১টি মূল দাবি
বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কল্যাণে যে ১১ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।
২. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কেবল মুখে নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে গেজেটভুক্ত করে সংবিধানে স্থায়ীভাবে 'রাষ্ট্রীয় শ্রেষ্ঠত্ব'-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা।
৩. জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রত্যেক জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত আসন নির্ধারণ করা।
৪. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
৫. দেশের যেকোনো স্থানে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তা হীনতা বা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা।
৬. দ্রুত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন বাস্তবায়ন করা।
৭. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সহ বিগত দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের ভিডিও ফুটেজ দেখে সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা।
৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করা।
৯. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা বৃদ্ধি করা।
১০. কার্ডের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের রেশনের আওতায় আনা।
১১. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা প্রদান এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
স্মারকলিপির শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে উল্লিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও সদয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন, নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ শাহজালাল,
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ: ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
𝐌𝐨𝐛𝐢𝐥𝐞 : 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔-𝟕𝟕𝟕𝟕𝟓𝟑, ইমেইল: bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত