মেহেন্দিগঞ্জের গোবিন্দপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা স্থানীয়দের।
মোঃ আতিকুর রহমান ,মেহেন্দিগঞ্জ :
বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা-এর গোবিন্দপুর ইউনিয়ন-সংলগ্ন নদী তীরবর্তী এলাকায় বালুমহালের কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকলেও এক শ্রেণীর ভূমিখেকো ও অসাধু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে এ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী স্থান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের পাশাপাশি আশপাশের নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলো আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক ড্রেজার নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ড্রেজারের নাম হলো মাতাব্বর ড্রেজিং প্রকল্প, বাবার স্মৃতি, স্বদেশ লোড ড্রেজার, আশরাফুজ্জামান লোড ড্রেজার, সিফাত-১ ড্রেজার, ইব্রাহিম লোড, আল মুমিন ড্রেজার, ইয়া রাহীম ড্রেজার এবং আশিক ড্রেজার। এছাড়াও আরও একাধিক ড্রেজার অবিরাম বালু উত্তোলন করছে বলে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে আশপাশের বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনের চোখের সামনে বা নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এত সংখ্যক ড্রেজার পরিচালিত হচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত। গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, বালু উত্তোলন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।