দুর্ঘটনার শঙ্কায় পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল মেয়াদ শেষের দুয়ারে !
আব্দুর রহমান,সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে এখনো শেষ হয়নি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজ। একই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণের কথা থাকা ওয়াশব্লকের কাজও শুরু হয়নি। এর মধ্যে বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে ভবনের ছাদের ওপর নির্মাণকাজ চলায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালে শ্রমিকেরা ভবনের ছাদের ওপর প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণে ব্যস্ত। এ সময় ওপর থেকে ইট, বালু, সিমেন্ট, কাঠসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়ছে। নিচ দিয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচল অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও একটি ওয়াশব্লক নির্মাণের কথা রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখেও ওয়াশব্লকের কাজ শুরু হয়নি। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এদিকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নিচতলায় হওয়া উচিত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনের ছাদের ওপর কক্ষটি নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হলে প্রকৌশল বিভাগ অনুমোদিত নকশা (ডিজাইন) অনুযায়ী কাজ হচ্ছে বলে জানায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বন্দনা চন্দ বলেন, “কাজ অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে। ক্লাস চলাকালে নির্মাণকাজ করায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা বিদ্যালয় চলাকালে কাজ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নিচতলায় হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা হতো। কিন্তু ছাদের ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে প্রকৌশল বিভাগ ডিজাইনের কথা বলেছে। অন্যদিকে ওয়াশব্লকের কাজ দ্রুত শুরু না হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বে।” বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক সালমা খাতুন বলেন, “বিদ্যালয়ে ছোট ছোট শিশুরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। অথচ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণকাজ চলছে। ভবনের ওপর থেকে নির্মাণসামগ্রী পড়ে যাওয়ায় আমরা আতঙ্কে থাকি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “বিদ্যালয় চলাকালে এমনভাবে নির্মাণকাজ করা উচিত নয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”