
সিলেটে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ টাকেন নিয়ে চরম ভোগান্তি ।
সিলেটে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ টাকেন নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। টাকা রিচার্জের পর দেওয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক পরিমানের ডিজিট। রিচার্জের পর ৮০ থেকে ২৪০ সংখ্যার টোকেন নাম্বার আসছে। এতো বিপুল সংখ্যক নাম্বার তুলতে ভুল হচ্ছে বেশির ভাগের গ্রাহকরেই। নাম্বার তুলতে ভুল হওয়ায় অনেকের মিটার লকও হয়ে যাচ্ছে। মিটার সচল করতেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগীতার অভিযোগ।তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ইউনিট মূল্য নতুন ভাবে নির্ধারিত হওয়ায় এই ভোগান্তি। গ্রাহকদের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করার কথা জানান তারা।গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ এই টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বারবার ভুল হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রিচার্জ সম্পন্ন হচ্ছে না, আবার কারও কারও মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে তাদের।এদিকে, হঠাৎ কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক গ্রাহকরা। ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক জানান, রিচার্জের পর গ্রাহকদের মোবাইলে প্রায় ২০০ ডিজিটের টোকেন পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেকেই একাধিকবার ভুল করছেন এবং এতে নতুন করে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।গ্রাহকরা জানান, প্রিপেইড মিটার রিচার্ডের পর অস্বাভাবিক লম্বা ডিজিটের টোকেন আসছে মাসেজে। সংখ্যাটা ষাট থেকে দুশো চশ্লিশ পর্যন্ত। যা ইনস্টলেশনে ঘাম ঝড়াতে হচ্ছে দক্ষ গ্রাহকদেরই। আর, যারা একটু বয়স্ক কিংবা অনভিজ্ঞ তাদেরতো কথাই নেই। কখনো লক হয়ে যাচ্ছে মিটার। ফলে, তীব্র গরমে বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।নগরীর হবিনন্দী এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম আহমদ বলেন, মিটারে টাকা রিচার্জের পরে প্রায় ২৪০ ডিজিটের একটি টোকেন দেওয়া হয়েছে। এই নম্বর কয়েকবার চেষ্টা করেও মিটারে ইনস্টল করতে পারিনি। সমস্যা যখন এতোটাই গভীর, তখন অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অসহযোগীতার।যদিও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন হওয়ায় আবাসিক প্রিপেইড মিটারে ৬টি ধাপে বিল হিসাব হয় এবং প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য নতুন ভাবে নির্ধারিত হয়েছে। মিটারে এই আপডেট কার্যকর করতে সাধারণ রিচার্জ টোকেনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত টোকেন পাঠানো হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করার কথা জানান এই কর্মকর্তা।সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বৈদ্যুতিক মিটারের ট্যারিফ পরিবর্তন করার কারণে গ্রাহকদের একবার দীর্ঘ টোকেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। একবার সতর্কতার সঙ্গে টোকেনটি সঠিকভাবে রিচার্জ করলে মিটার নতুন ট্যারিফ বুঝে যাবে। এবং পরবর্তী রিচার্জে পুনরায় স্বাভাবিক টোকেন পাওয়া যাবে।তিনি বলেন, এই সমস্যা নিয়ে যারা আমাদের কাছে সাহায্যের জন্য আসছেন তাদের সাধ্যমত সহায়তা করছি। এদিকে, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো ত্রুটি বা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর করার জন্যই দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত এই টোকেন।সংস্থাটি জানায়, আবাসিক প্রিপেইড মিটার গুলোতে ৬ ধাপে বিদ্যুৎ বিল হিসাব করা হয়। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য পরিবর্তন হয়েছে। মিটারে নতুন মূল্যহার কার্যকর করতে গ্রাহকদের রিচার্জ টোকেনের সঙ্গে অতিরিক্ত টোকেন পাঠানো হচ্ছে।নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই টোকেন পাওয়া মানেই মিটারে কোনো সমস্যা হয়েছে এমনটি নয়। বরং এটি নতুন ট্যারিফ হালনাগাদের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। টোকেন প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, এসএমএস বা সংশ্লিষ্ট পোর্টালে দেওয়া ২২০ ডিজিটের টোকেন প্রতি ২০ ডিজিট পরপর কমা (,) দিয়ে ভাগ করা থাকে। প্রাহকদের প্রথম ২০ ডিজিট মিটারে প্রবেশ করিয়ে সবুজ বাটন বা ‘এন্টার’ চাপতে হবে। এরপর পরবর্তী ২০ ডিজিট একইভাবে পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করাতে হবে। সবগুলো অংশ সফল ভাবে প্রবেশ করানোর পর মিটারে ব্যালান্স যোগ হবে এবং নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com