
শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবড়ুনা ইউনিয়ন এলাকায় নদীতে স্থায়ী বাঁধ না থাকায় হাজার একর চাষাবাদ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে !
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সিংগাবড়ুনা ইউনিয়ন এলাকায় নদীতে স্থায়ী বাঁধ না থাকায় হাজার একর চাষাবাদ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঢেওফা নদীর পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে সৃষ্টি করছে ভয়াবহ দুর্ভোগ। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটিফাটা গ্রামে ঢেওফা নদীতে কোনো টেকসই বাঁধ না থাকায় নদীর পানি ব্রিজের নিচ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হলেও অধিকাংশ পানি পূর্ব দিকের বিস্তীর্ণ ফসলি জমির ওপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বড়ুইকুচি, চুকচুকি, হাসধরা, চক্রপুর ও হাতিবর গ্রামের কিছু অংশ প্লাবিত হচ্ছে। পানির তীব্র স্রোতে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়িও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরেই বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল নামলে রাতারাতি পানি বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। এতে কৃষকরা সময়মতো ফসল আবাদ করতে পারছেন না। অনেক জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরেই ঠিকমতো আবাদ করতে পারছি না। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই নদীর পানি জমিতে ঢুকে পড়ে। ধান, পাটসহ সব ধরনের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এখন মানুষ কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আরেক বাসিন্দা রঞ্জু মিয়া বলেন, বর্ষা আসলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। পানি বাড়লে ঘরবাড়িতেও ঢুকে পড়ে। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। একটি স্থায়ী বাঁধ হলে এই এলাকার মানুষ বাঁচতে পারতো। স্থানীয় জনগণ জানান, গত বছর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি ছিল দায়সারা। নদীর পাশে কয়েকটি বাঁশের খুঁটি বসিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তা কোনো কার্যকর সমাধান আনতে পারেনি। বরং সামান্য স্রোতেই সেই বাঁশের কাঠামো ভেঙে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নদীর ওই অংশে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আগামী দিনে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে কয়েকটি গ্রাম। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। শেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com