
আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্ত করে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগের দাবি: সংবাদ সম্মেলন ও ৭ দফা প্রস্তাবনা পেশ !
ঠিকাদারি ও আউটসোর্সিং ব্যবস্থার নামে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের চরম বৈষম্য ও শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে এই প্রথা বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে 'বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ'। আজ ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে রাজধানীর হাতিরপুলস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে বর্তমান সরকারের নিকট আউটসোর্সিং প্রথা পুরোপুরি বাতিল এবং নীতিমালার আমূল সংশোধনের লক্ষ্যে ৭ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে ৬৫০টি মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত রয়েছে, যারা প্রতি বছর সরকারি তহবিল থেকে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ বা কমিশন বাবদ ৩১৫ থেকে ৬৬০ কোটি টাকা সরাসরি অপচয় করছে। এই বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধ করে আউটসোর্সিং, দৈনিক মজুরি ও প্রকল্প ভিত্তিক কর্মরত কর্মচারীদের সরাসরি প্রতিষ্ঠান প্রধানের অধীনে আত্তীকরণ এবং নীতিমালার মাধ্যমে চাকরি স্থায়ীকরণের জোরালো দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও বিশিষ্ট নাগরিকগণ আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী, শ্রমিক নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান লিংকন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, ঢাকা। জনাব আবুল হাসান রুবেল, নির্বাহী সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন, কেন্দ্রীয় কমিটি। জনাব তাসলিমা আক্তার লিমা, সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি আন্দোলন। জনাব এস এম হাম্মান, সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি। জনাব বাপ্পু ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, গণসংহতি আন্দোলন। জনাব মো: মাহবুবুর রহমান আনিস, সভাপতি, বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ। জনাব মো: নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ।বর্তমান সরকারের নিকট পেশকৃত ৭ দফা প্রস্তাবনা সংবাদ সম্মেলন থেকে কর্মচারীদের অধিকার সুরক্ষায় এবং আউটসোর্সিং প্রথা বিলুপ্তির লক্ষ্যে ৭টি সুনির্দিষ্ট সংশোধনী ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়:আউটসোর্সিং নীতিমালা সংস্কার ও ঠিকাদারি প্রথা বিলোপ: মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারি প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে কর্মরত কর্মচারীদের সরাসরি প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করতে হবে। ৬৫০টি মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করে রাষ্ট্রীয় তহবিলের ৩১৫ থেকে ৬৬০ কোটি টাকার অপচয় বন্ধ করতে হবে।দৈনিক মজুরি ভিত্তিক নীতিমালা সংস্কার: "কাজ নেই, মজুরি নেই" এই বৈষম্যমূলক নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনগুলোসহ (৩০ দিন হিসাব করে) পূর্ণ বেতন চালু রাখতে হবে। দৈনিক ৮০০-১০০০ টাকা মজুরি নির্ধারণপূর্বক প্রতি মাসে ন্যূনতম ২৪,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা বেতন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মৌলিক অধিকার প্রদান করতে হবে। জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় অন্তর্ভুক্তি: আউটসোর্সিং, দৈনিক মজুরি ও প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারীদের কাজের ধরন অনুযায়ী জাতীয় পে-স্কেল (২০১৫) এর নির্দিষ্ট গ্রেডে (১৬ থেকে ২০ তম গ্রেড) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্থায়ী কর্মচারীদের মতো একই কাজের জন্য সমপরিমাণ মূল বেতন (Basic Pay) এবং অন্যান্য সরকারি ভাতা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০২৫ এর সংশোধন: এই নীতিমালার বিভিন্ন অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সেবাকর্মীদের বয়সসীমা ১৮-৬২ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নারী সেবাকর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪৫ দিনের পরিবর্তে ১৮০ দিন এবং পঞ্জিকা বর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি প্রাপ্যতার বিধান রাখার দাবি জানানো হয়। প্রকল্প ভিত্তিক কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ: চলমান প্রজেক্ট বা স্কিমের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কর্মরতদের বহাল রাখতে হবে। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অভিজ্ঞ কর্মচারীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে আত্তীকরণ ও নীতিমালার মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগের গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের নিরাপত্তা ও বকেয়া বেতন পরিশোধ: সেবাকর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান এবং ঝুঁকি ভাতা অনুমোদন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সাথে চাকরিচ্যুতদের পূর্ণ পুনর্বহাল এবং সমস্ত বকেয়া বেতন পরিশোধের স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করতে হবে। বয়স শিথিল করে স্থায়ীকরণ: সকল সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং/দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের যোগদানের তারিখ থেকে বয়স শিথিলকরণের বিধান রেখে নিয়োগ বিধিমালা বিশেষ সংশোধনীসহ অনুমোদন করে সরাসরি স্থায়ীকরণের দাবি জানানো হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com