
নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের দাবি ১-১২ তম নিবন্ধিত শিক্ষকদের !
১ম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ এবং নিয়োগবঞ্চিত জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকেরা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন। আজ (৭ জুন, ২০২৬) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মনিরুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক এফ এম ফেরদৌসী আক্তার স্বাক্ষরিত এক লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর এই দাবি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে ১-১২ তম NTRCA নিবন্ধিত শিক্ষক প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চলমান তাঁদের চরম বৈষম্য, আন্দোলনের ইতিহাস এবং আইনি যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও রাজনৈতিক আশ্বাস আবেদনে শিক্ষকেরা উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তাঁরা তীব্র বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা শাহবাগে টানা ২০৩ দিনসহ বিভিন্ন সময় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে এসেছেন। দাবির পক্ষে তাঁরা দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন: গত বছরের (২০২৫ সালের) ১৬ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত করেন যে, জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসলে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের বিষয়টি সমাধান করা হবে। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামসহ একাধিক নেতা বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আইনি রায় ও বিগত সরকারের অবহেলা শিক্ষকেরা তাঁদের স্মারকলিপিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় (মামলা নং ৩৯০০/২০১৯) উল্লেখ করে জানান, ২০১৮ সালের ১২ জুনের পূর্বে যারা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ লাভ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আদালতের এই রায় অমান্য করে এবং ২০২১ সালের ৩য় গণবিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের আবেদনের সুযোগ দিয়েও শেষ পর্যন্ত "আবেদনের নামে প্রহসন" করে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত রাখে। এমনকি ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় একটি প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে ১-১২ তমদের দীর্ঘদিনের জট খোলার চেষ্টা করা হলেও বিগত সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রত্যাশা আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার এ.পি.এস মোঃ সাব্বির আহমেদ এবং শিক্ষা সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তাঁদের স্থায়ী নিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছিলেন। এছাড়া বিগত ২০২৬ সালের ১ মার্চ শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে NTRCA বৈঠকে ১-১২ তমদের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আজ পর্যন্ত সেই নির্দেশনার দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন না ঘটায় শিক্ষকেরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। নির্বাহী আদেশের জরুরি আবেদন স্মারকলিপির শেষ অংশে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, "১ম-১২তম নিবন্ধনধারী প্রার্থীদের দাবীকৃত দীর্ঘদিনের সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।" তাঁরা অনতিবিলম্বে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ প্রদান করে শিক্ষক সমাজকে বৈষম্যমুক্ত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com