
হাটহাজারীতে অবৈধ দখলে বিপন্ন হাজারী খাল!
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর ফয়েজিয়া বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী হাজারী খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে খালের দখলকৃত অংশ উদ্ধার করা হলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেখল ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হাজারী খাল এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র খালের অংশ বিশেষ ভরাট করে সেখানে পাকা বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলের দাবির মুখে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে।স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারত। পাশাপাশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।তারা বলেন, খাল ও জলাশয় রক্ষা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, জনজীবন, কৃষি উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমান বলেন, “হাজারী খালসহ কোনো সরকারি খাল, জলাশয় বা ভূমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে খালের দখলকৃত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্ছেদ-পরবর্তী স্থানে কেউ পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী হাজারী খাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে যাতে কেউ পুনরায় খাল দখলের চেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।জানা গেছে, খাল রক্ষার দাবিতে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকির মাধ্যমে হাজারী খালকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা হবে এবং এর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।সচেতন মহলের মতে, হাজারী খাল দখলমুক্ত হওয়ায় শুধু একটি খালই রক্ষা পায়নি, বরং এলাকার পরিবেশ, কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও বড় ধরনের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তাই খাল রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com