
তরুণদের তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে দাম বাড়ানোর জোরালো দাবি !
তরুণদের তামাক ব্যবহার শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত করতে আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠন 'সন্ধানী'। ২০ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপন করা হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর কারিগরি সহায়তায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল তথ্যাদি নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রস্তাবিত নতুন মূল্য কাঠামো
বাজেটে তরুণদের জন্য তামাকের সহজলভ্যতা কমাতে নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট কর ও মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে:
নিম্ন ও মধ্যম স্তর: এই দুটি স্তরকে একীভূত করে ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ।
উচ্চ স্তর: ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ।
প্রিমিয়াম স্তর: ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণ।
তামাক ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র ও অর্থনৈতিক ক্ষতি
মূল বক্তব্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়:
শীর্ষে বাংলাদেশ: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। অকাল মৃত্যু: টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়, যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ।
রাজস্ব বনাম ক্ষতি: ২০২৪ সালে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা—যা অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।
দ্রব্যমূল্যের তুলনায় তামাক সস্তা: > ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আটা, ডিম ও গুঁড়া দুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৩০ থেকে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও তামাকপণ্যের দাম বেড়েছে নামমাত্র। নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ১৩.৩৮ শতাংশ এবং জর্দার দাম প্রায় ১৩ শতাংশ। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাক আরও সস্তা ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, তামাকপণ্যের কার্যকর মূল্য বৃদ্ধিই তরুণদের ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত রাখার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
প্রস্তাবিত কর ও মূল্য সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে এতে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।
অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ তরুণ এবং ১৮-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ২২.৩ শতাংশ। তিনি বর্তমান চার স্তরবিশিষ্ট জটিল সিগারেট কর কাঠামো সংস্কার করে তামাকের সহজলভ্যতা কমানোর তাগিদ দেন। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. সাদিকুর রহমান ইফাত বলেন, কার্যকরভাবে তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হলে লাখো তরুণ ধূমপান থেকে দূরে থাকবে এবং ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগ ও অকাল মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com