
ফ্রান্সে পাঠানোর নামে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ, যুবক নিখোঁজ বেলাবতে সক্রিয় মানবপাচার চক্র, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাই পরিচয়ে প্রতারণা: মামলা হলেও অধরা আসামিরা !
নরসিংদীর বেলাব ও রায়পুরা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে এক পরিবার। উন্নত জীবনের আশায় ফ্রান্সে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গত প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সজিব মিয়া (২৮) নামে এক যুবক। ফ্রান্সে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের স্ত্রী সুমিতা বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলে রায়পুরা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৫/৬/৭/৮ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং-২৪(৪)/২৬)। তবে মামলার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিসহ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
প্রলোভন ও নিখোঁজের ঘটনা
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলাব উপজেলার চরলক্ষীপুর (মধ্যপাড়া) এলাকার হযরত আলীর ছেলে পাভেল (৪০) নিজেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানবপাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে রায়পুরা উপজেলার মামুদপুর এলাকার সজিব মিয়াকে ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যান পাভেল ও তার সহযোগীরা। কিন্তু সজিবকে ফ্রান্সে না পাঠিয়ে কৌশলে মালদ্বীপে পাচার করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর থেকেই সজিবের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
চক্রের কার্যপদ্ধতি ও নির্যাতনের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পাভেল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকার সরল-সোজা যুবকদের টার্গেট করে আসছিল। ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের একাংশের অভিযোগ, চক্রটি অনেক সময় যুবকদের ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়া বা মালদ্বীপের মতো দেশগুলোতে আটকে রাখে। সেখানে গোপন ক্যাম্পে বন্দি রেখে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের জন্য তাদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়ে এর আগে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
"আমার স্বামীকে ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে ওরা ২৯ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন আমার স্বামী নিখোঁজ। মামলা করার পর থেকে পাভেল ও তার লোকজনেরা আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
— সুমিতা বেগম, নিখোঁজ সজিবের স্ত্রী
প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
মামলার আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। উল্টো আসামিদের হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ সজিব মিয়াকে উদ্ধার এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন,
"আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।"
"অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com