
শেরপুরে সড়ক অবরোধে অচল মহাসড়ক ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-শেরপুর সড়কের শেরপুর গুলচত্ত্বরে মৌলভীবাজার জেলা বাস মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা হবিগঞ্জ সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস গাড়িকে সিলেট ঢুকতে না দেওয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় শেরপুর চত্বরে এতে চরম দুর্ভোগের পড়েন যাত্রিসাধারণ কে। শেরপুর গুলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন মৌলভীবাজার জেলা বাস-মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি—ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে চলাচলকারী ‘হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস’ বাস বন্ধ করতে হবে।
অবরোধের কারণে সিলেট-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে শত শত যানবাহন। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা। কেউ গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন, আবার কেউ দীর্ঘক্ষণ রোদে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ‘হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস’ নামে চলাচলকারী কিছু বাস দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ, বৈধ কাগজপত্র ও নির্ধারিত পরিবহন নীতিমালা উপেক্ষা করে সড়কে চলাচল করছে। বাসগুলোকে “বিরতিহীন সার্ভিস” হিসেবে পরিচালনার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা করা হচ্ছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, আন্তঃজেলা পরিবহন আইনে এক জেলার পরিবহন অন্য জেলার অভ্যন্তরে যাত্রী পরিবহন বা স্টপেজ ব্যবহারের অনুমোদন থাকতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বাসগুলো সেই নিয়ম মানছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের চোখের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একাধিক স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিয়ম না মেনে চলা এসব বাসের কারণে স্থানীয় লোকাল বাস ও মিনিবাস ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রী কমে যাওয়ায় অনেক মালিক কিস্তি ও শ্রমিকের বেতন পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।
অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন—দুই পক্ষের বিরোধের খেসারত কেন সাধারণ মানুষকে দিতে হবে? অবরোধে আটকে পড়া কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে সড়কে এমন অচলাবস্থা তৈরি হতো না।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান বলেন, “যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ফিটনেসবিহীন ও অভিযোগ থাকা বাসগুলো কীভাবে দিনের পর দিন সড়কে চলাচল করছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতি, নাকি প্রভাবশালী কোনো চক্রের ছত্রছায়ায় চলছে এই পরিবহন নৈরাজ্য—এ নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com