প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৩, ২০২৬, ৬:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ৮:৩১ পি.এম
প্রবাসীর স্ত্রীর সাহসী লড়াই বিনিময়ে ৪ সন্তানসহ যাযাবর জীবন!

প্রবাসীর স্ত্রীর সাহসী লড়াই বিনিময়ে ৪ সন্তানসহ যাযাবর জীবন!
আসামিদের হুমকিতে ঘরছাড়া পরিবার; বন্ধ শিশুদের পড়াশোনা, বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা স্বামী পড়ে আছেন সুদূর প্রবাসে, হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে পাঠাচ্ছেন রেমিট্যান্স। স্বপ্ন ছিল সন্তানরা বড় হবে, শিক্ষিত হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ লণ্ডভণ্ড। ধর্ষণের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে আইনি লড়াই শুরু করে উল্টো এখন নিজ দেশেই ‘উদ্বাস্তু’ এক প্রবাসীর স্ত্রী। আসামিদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে ৪ সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে এখন অন্যের দ্বারে দ্বারে আশ্রয় খুঁজছেন এই মা। নিরাপত্তাহীনতায় থমকে গেছে অবুঝ শিশুদের পড়াশোনা।রোববার (১০ মে) সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে নিজের অসহায়ত্বের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের সেই ভুক্তভোগী নারী। তার সাথে থাকা ৪টি শিশুর চোখেও ছিল আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ছাপ।
বিভীষিকার শুরু যেভাবে
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্বামী আসাদ মিয়া সৌদি আরবে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই থাকতেন ওই নারী। এই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের কুনজর পড়ে তার ওপর। দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও উত্যক্ত করার পর একপর্যায়ে তারা ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। থানায় অভিযোগ দিতে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় আসামি করা হয় নরেন্দ্রপুর গ্রামের ইব্রাহিম (৩২), রিফাত (২৮) ও তোফাজ্জল হোসেনকে (২৯)। ঘরবাড়ি ছেড়ে যাযাবর জীবন মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম বর্তমানে জেলহাজতে থাকলেও বাকিরা পলাতক। আর এই পলাতক আসামিরাই এখন ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। মামলা তুলে নিতে বাড়ি বয়ে এসে দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। ভুক্তভোগী নারী বলেন, "ওরা বলছে মামলা না তুললে আমাদের জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে। সন্তানদের দিকে তাকিয়ে আমি আজ ঘরছাড়া। আত্মীয়দের বাড়িতে রাত কাটাই, কিন্তু কতদিন এভাবে থাকা যায়?" অন্ধকারে শিশুদের ভবিষ্যৎ
সবচেয়ে করুণ দশা পরিবারটির ৪ সন্তানের। স্কুলের ব্যাগ আর বই এখন আলমারিতে বন্দি। আসামিদের ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তারা। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও এখন তাদের দিন কাটছে আতঙ্কে। শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে নরেন্দ্রপুরের আকাশ-বাতাস। প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না। তবে এখন খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একজন প্রবাসীর স্ত্রী যিনি সমাজ ও পরিবারের সম্মান রক্ষায় লড়াই করছেন, তাকে এভাবে এলাকাছাড়া হতে হওয়া রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে এই পরিবারটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একটি পরিবারের আর্তনাদ কি পৌঁছাবে বিচারালয় পর্যন্ত? নাকি প্রভাবশালী চক্রের হুমকিতে হারিয়ে যাবে ৪টি শিশুর ভবিষ্যৎ—এখন এটাই বড় প্রশ্ন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত