প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৩, ২০২৬, ৭:৩৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৯, ২০২৬, ৬:৩৩ পি.এম
গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা।

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহের ওপর কম্পিউটারে টাইপ করা একই অভিযোগপত্রের কপি উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত ওই অভিযোগপত্রে নিহত স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি প্রবাসী বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন— অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া (৪০) গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রতিটি লাশের ওপর একটি করে লিখিত অভিযোগের কপি রাখা ছিল। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী শারমিন স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন। এ ছাড়া রাজু নামের এক খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে শারমিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, গত ৩ মে শারমিন ও তার প্রেমিকসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোরকানকে একটি রুমে হাত-পা বেঁধে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিন সন্তানের গলা কাটা লাশ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের লাশ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান, ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে এ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন। গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচটি লাশের ওপরই কম্পিউটারে টাইপ করা অভিযোগের কপি পাওয়া গেছে। এটি গোপালগঞ্জ থানায় জমা দেয়া হয়েছিল কি না, নাকি এটি কেবল একটি চিরকুট হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল—তা আমরা যাচাই করছি। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোরকান মিয়া ওই বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সকালে প্রতিবেশীরা দীর্ঘক্ষণ ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে উঁকি দিয়ে রক্তাক্ত মরদেহগুলো দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। নিহত শারমিন খানম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মোঃ শাহাদাত মোল্যার মেয়ে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। পুলিশ মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত