দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় অবিচল কাজী রেজাউল হক সাঈদ ছাত্ররাজনীতি থেকে ইউরোপে বিএনপির সক্রিয় মুখ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে ছাত্রজীবন থেকেই সম্পৃক্ত কাজী রেজাউল হক সাঈদ দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজেকে একজন ত্যাগী, সংগঠক ও আদর্শনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি গ্রামের এই রাজনীতিক বর্তমানে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অবস্থান করলেও প্রবাসে থেকেও বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।শৈশব থেকেই নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন কাজী রেজাউল হক সাঈদ।

তাঁর স্কুল ও কলেজ জীবনের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি ছিলেন খেলাধুলায় পারদর্শী এবং নেতৃত্বপ্রিয় একজন ছাত্র। ক্লাস নাইনে গেমস ক্যাপ্টেন এবং ক্লাস টেনে জেনারেল ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।বাংলাদেশে অবস্থানরত শাহা আলম খান, অ্যাডভোকেট মোস্তাক মাহমুদ সোহেল, মোঃ জসিম উদ্দিন, সুইডেনপ্রবাসী শিক্ষক সৈয়দ আরিফুর রহমান, নিউইয়র্কপ্রবাসী গোলাম মাওলা চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনাপ্রবাসী ব্যবসায়ী তাসলিম আহমেদসহ তাঁর সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্ব, সংগঠন ও দলীয় কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ছিলেন।জানা যায়, ১৯৮৭-৮৮ সালে বাবুগঞ্জ থানা বিএনপির ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৮৮-৮৯ মেয়াদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শিকারপুর শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।দলীয় সূত্রমতে, ১৯৯০ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক মামলার কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও পারিবারিক সিদ্ধান্তে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। পরে জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট হয়ে বার্লিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে কর্মজীবনে প্রবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগও বজায় রাখেন।২০০০ সালের পর থেকে প্রবাসে বিএনপির রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন কাজী রেজাউল হক সাঈদ। ২০০৩ সালে বার্লিন শহর বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৮ সালে জার্মানি শাখা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ২০১২ সালে সর্ব ইউরোপ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান।দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জার্মানি থেকে দেশে এসে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতা করেন। তৎকালীন প্রার্থী সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সরদার সরফরাজ উদ্দিন সান্টুর পক্ষে প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি।এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইউরোপ সফরকালে বার্লিনে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তিনি সামনের সারিতে ছিলেন বলে জানা যায়। বার্লিন শাখার সভাপতি আব্দুর রব মাস্টারের নেতৃত্বে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক সদস্য সচিব নুর চৌধুরী জিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতেন কাজী রেজাউল হক সাঈদ। দলীয় অনেক নেতা-কর্মীর মতে, দুঃসময়ে প্রবাসে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন সরকারের গুম, খুন ও দমন-পীড়নের নানা তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। জার্মান পার্লামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়গুলো অবহিত করতে প্রবাসী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন বলেও জানা যায়।
২০১৬ সালে জার্মানি শাখা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের সময়ও তিনি সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি দুই দফায় জার্মানি শাখা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।দলীয় একাধিক নেতা-কর্মী জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও হয়রানির মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাননি। বরং প্রবাসে থেকেও নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, নেতাকর্মীদের সহযোগিতা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।বরিশাল অঞ্চলের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা বলেন, দলের দুঃসময়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা ও সাংগঠনিক সহায়তায় কাজী রেজাউল হক সাঈদের ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং প্রবাসে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ভবিষ্যতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে তাঁর সমর্থকরা আশাবাদী।প্রবাসে অবস্থানরত বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী মনে করেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় আদর্শে অটল থেকেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, কাজী রেজাউল হক সাঈদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও অবদান দল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও প্রবাস থেকে ধারাবাহিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে কাজী রেজাউল হক সাঈদের নাম এখন বিএনপির প্রবাসী রাজনীতির আলোচিত মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।তাঁর সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সাফল্য কামনা করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com