রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
তারাগঞ্জে অবৈধ চার দোকান উচ্ছেদ, জরিমানা ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা পীরগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরকে বলৎকার ॥ ১৫ মাসেও বিচার পায়নি অসহায় পরিবার বিমানবন্দরে প্রায় দেড় কোটি টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী আটক দিনাজপুরে “বউ মেলা” জীবনসঙ্গী খুঁজতে আসবেন আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা! শিক্ষিত বেকার বাড়ছে:  কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি! সাঘাটায় তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম! কবিতা/আত্মোপলব্ধি /আসাদুজ্জামান খান মুকুল কালিহাতীর বল্লা হাটে পরিচ্ছন্নতা  অভিযান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে —জহির উদ্দিন স্বপন বান্দরবানের লামা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনা

মাদকবিরোধী অবস্থানের জেরে বিএনপি নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬




বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নে মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার ওপর হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে, ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান মিন্টু (৪৫) দাবি করেন, এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে ছিলেন। সোমবার বিকেলে বার্থী বাজারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতাদের জানালে তারা রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সামনেই আবার হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি ও তার সমর্থক মজিবর রহমান আহত হন। পরে তাদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

একই ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে মিন্টুর সমর্থক মিজান সরদার (৫৫) নামের আরেক বিএনপি নেতাকেও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা সহিদুল ইসলাম জুয়েল। তার দাবি, তিনি কোনো মাদক বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। বরং মিজানুর রহমান মিন্টুই এলাকায় বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদকবিরোধী অবস্থানকেও বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন কেউ কেউ।

গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বলেন, তাদের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে মাদক বা অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি তারা শুনেছেন, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ দাবি করেছে, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং পরবর্তীতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য ভিন্নমুখী তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি সংবেদনশীল হওয়ায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews