পিবিআই ঢাকা জেলা কর্তৃক আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর ফয়সাল মোল্লা হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার।
ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর ফয়সাল মোল্লা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামি মো:বিপ্লব হাসান বিপুকে মামলা রুজু হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। নিহত ব্যক্তির নাম ফয়সাল মোল্লা (৩৫), পিতা- মোঃ হুমায়ুন কবির, সাং- শ্রীখন্ডিয়া, থানা- আশুলিয়া, জেলা- ঢাকা। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম, মো:বিপ্লব হাসান বিপু(২৮), পিতা-মোঃ আরজুল হক, সাং- শ্রীখন্ডিয়া, থানা-আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ছেনি দা উদ্ধার করা হয় এবং গ্রেফতারকৃত মো: বিপু ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন শ্রীখন্ডিয়া এলাকায় ফয়সাল মোল্লা (৩৫) নামক এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মোঃ হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মো: বিপ্লব হাসান বিপু (২৮) এবং মো: মাসুদ (৩৪) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১/২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৭১, তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড)। ঘটনার পর পরই এজাহার নামীয় আসামি মো:বিপ্লব হাসান বিপু (২৮) এবং মো: মাসুদ পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পিবিআই এর সিডিউল ভুক্ত হওয়ায় গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আহসান উল্লাহকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। হত্যাকাণ্ডে আসামিদের অবস্থান সনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারে পিবিআই ঢাকা জেলা টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে।পিবিআই প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম,এন, মোর্শেদ, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই এর তদন্ত টিম গত ১৯ এবং ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফিন এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে বোয়ালমারীর সাতৈর থেকে মামলার এজাহার নামীয় আসামি মো: বিপ্লব হাসান বিপু (২৮)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত মোঃ ফয়সাল গ্রেফতারকৃত মো:বিপ্লব হাসান বিপু(২৮) এবং অপর এজাহার নামীয় আসামি মো: মাসুদদ্বয়ের দূর সম্পর্কে মামাতো ভাই। দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং ক্ষোভের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন ভিকটিম ফয়সাল এজাহার নামীয় আসামি বিপ্লব হাসান বিপুর দুইজন কর্মচারীর নিকট থেকে নেয়া মোবাইল ফোন ফেরত দেয়ার জন্য বিপ্লব হাসান বিপুকে ঘটনাস্থলে আসতে বলে। মো:বিপ্লব হাসান বিপু(২৮) ঘটনাস্থলে আসে এবং তার বড় ভাই মাসুদকেও ফোন করে আসতে বলে। মো:বিপ্লব হাসান বিপু(২৮) এবং ফয়সাল কথা বলা অবস্থায় মাসুদ সেখানে আসে এবং তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ফয়সালকে অতর্কিত উপর্যুপুরি আঘাত করতে শুরু করে। সে সুযোগে মো:বিপ্লব হাসান বিপু (২৮) ফয়সালের হাতে থাকা ছেনি দা নিয়ে ফয়সালকে কোপাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ফয়সালের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আত্মগোপনে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত মো: বিপ্লব হাসান বিপু'র দেখানো মতে আশুলিয়া থানার শ্রীৎন্ডিয়া এলাকার জনৈক হাজী আলতাফ সরদারের নার্সারীর কাঁঠাল গাছের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছেনি দা'টি ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকালে উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন মোর্শেদ, পিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর পরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আমি বিষয়টি তদারকি করি এবং এক পর্যায়ে মামলাটি স্বউদ্যোগে অধিগ্রহণ করি। পিবিআই ঢাকা জেলার বিরামহীন এবং নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ঘটনার এক সপ্তাহের কম সময়ের ভেতরে জড়িত আসামিকে সনাক্ত এবং গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। ঘটনার পর স্থানীয় জনমনে ভীতি সঞ্চার ও বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পিবিআই ঢাকা জেলা কর্তৃক দ্রুতসময়ের মধ্যে আলোচিত মামলার আসামী গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার এবং আসামীর ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রদান করায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com