মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে নিজ এলাকা গৌরবদীতে ফিরলেন বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন বেপারি শরীয়তপুরের তুলাসারে হা-ডু-ডু টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক মোঃ হাবিবুর রহমান মানবাধিকার শান্তি সম্মাননা পুরষ্কার পেয়েছেন ৩০ কোটি টাকার সেতু দুটিতে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তিতে গাইবান্ধাবাসী সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি ব্যয়ের হিসাব চায় এনসিপি! লক্ষ্মীপুরে একমাসে ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিদায়! দুর্নীতিতে স্থবির উন্নয়ন জলঢাকায় মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন এর প্রতিবাদে মানবাধিকার কর্মীর সংবাদ  সম্মেলন নবাবগঞ্জে মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত যার যার ধর্ম নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে পালন করবেন,সরকার এটাই প্রত্যাশা করে …. এমপি নুরুল

নরসিংদীতে ভুয়া এনটিআরসিএ সনদে শিক্ষক নিয়োগ: ৫ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬




নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় ভুয়া এনটিআরসিএ (এনটিআরসিএ) সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ, অর্থ বাণিজ্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে পাঁচজন অধ্যক্ষ ও সুপারের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেন মনোহরদী উপজেলা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট পুনম সরকার এবং ঢাকা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার সজল। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মামলার কপি সংযুক্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাদী কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিল জানান, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া এনটিআরসিএ সনদ ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আসছিলেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—

মনতলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. বাকিউল ইসলাম (৫২), কোচের চর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কামাল উদ্দিন (৫৫), টিকিউ বালিকা মাদ্রাসার সুপার এমারত হোসাইন (৫৮), শেখেরগাঁও জেড ইউ ফাজিল মাদ্রাসার সুপার একলাছ উদ্দিন (৫৫) এবং চন্দনবাড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু রায়হান ভূঁইয়া (৫৭)। বাদী কাজী শরিফুল ইসলাম এজাহারে দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানমূলক কাজ করে আসছেন। তার অনুসন্ধানে দেশে প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের তথ্য উঠে আসে। এ বিষয়ে তিনি ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর এনটিআরসিএ-তে এবং ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন ২৬ জন ভুয়া সনদধারী শিক্ষকের ইনডেক্স বাতিল করে এবং তাদের বেতন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি উত্তোলিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এজাহারে আরও বলা হয়, বাকিউল ইসলামের প্রতিষ্ঠানে ৮ জন, কামাল উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানে ৮ জন, একলাছ উদ্দিনের প্রতিষ্ঠানে ৪ জন এবং এমারত হোসাইনের প্রতিষ্ঠানে ১১ জন শিক্ষক ভুয়া সনদের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে প্রায় ৫০০ জন এবং মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ১০০ জন ভুয়া শিক্ষক শনাক্ত হয়ে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, এসব অনিয়ম প্রকাশ পাওয়ার পর অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালায়। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর একটি মানববন্ধন আয়োজন করে সেখানে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। মানববন্ধনের ব্যানারে মানহানিকর বক্তব্য লিখে তা ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে বাদীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ তোলা হলেও এজাহারে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং তাকে পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বাদী আদালতের কাছে আবেদন জানান। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews