মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে নিজ এলাকা গৌরবদীতে ফিরলেন বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন বেপারি শরীয়তপুরের তুলাসারে হা-ডু-ডু টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক মোঃ হাবিবুর রহমান মানবাধিকার শান্তি সম্মাননা পুরষ্কার পেয়েছেন ৩০ কোটি টাকার সেতু দুটিতে নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তিতে গাইবান্ধাবাসী সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি ব্যয়ের হিসাব চায় এনসিপি! লক্ষ্মীপুরে একমাসে ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিদায়! দুর্নীতিতে স্থবির উন্নয়ন জলঢাকায় মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন এর প্রতিবাদে মানবাধিকার কর্মীর সংবাদ  সম্মেলন নবাবগঞ্জে মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত যার যার ধর্ম নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে পালন করবেন,সরকার এটাই প্রত্যাশা করে …. এমপি নুরুল

রংপুরের একটি  সেতুর অভাবে বিপাকে ২০ গ্রামের মানুষ !

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬




রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুটি ও সয়ার ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী নদীর চিলাপাক কালুরঘাটে স্থায়ী একটি  সেতুর অভাবে ২০টি গ্রামের মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চিলাপাক-কালুরঘাট দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা খেয়াঘাটের ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নদী পারাপার হন গ্রামবাসী। কিন্তু বর্ষায় সেই সাঁকো তলিয়ে যায়। নদীর পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন নৌকায় পারাপার করতে হয় নদী। যা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রাতের জরুরি প্রয়োজনেও নদী পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক গ্রামবাসী জানান, বর্ষার সময় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও নৌকা পাওয়া যায় না। নদীর স্রোত বেশি থাকলে মাঝিরাও পারাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। এই অঞ্চলে ধান, আলু, ভুট্টা ও শাকসবজি উৎপাদন হলেও সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে লোকসানে পড়তে হয় তাদের। ফলে কৃষির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো পড়েন আর্থিক সংকটে।

এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে ও মাদ্রাসায় যেতে হয়। বর্ষায় ঝুঁকির কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। ফলে পড়াশোনায়ও পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়ন এ কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মতিনুজামান বলেন, আমার বাড়ি নদীর ওপারে এখানে একটি স্থায়ী ব্রীজ না থাকায় এ এলাকার লোকজনের চলাচলে চরম কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ কষ্ট আরো বেড়ে যায়।তখন এই এলাকার লোকজনের চলাচল ভীষণ কষ্টকর হয়ে পড়ে দাঁড়ায়। অসুস্থ রোগীদের জন্যও ঘাট যেন এক দুঃস্বপ্ন। হঠাৎ অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা শহরে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। দেরিতে চিকিৎসা পাওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে যায়।চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। হারিয়ারকুটি ও সয়ার ইউনিয়নের চিলাপাক, পাটানি পাড়া, দোলাপাড়া, বানিয়াপাড়া, উজিয়াল,মামুনপাড়া, মেনানগর, কালুরঘাট, ডাঙ্গাপাড়া, প্রামানিক পাড়া, মন্ডলপাড়া, মাসুয়াপাড়া সহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ সরাসরি এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়রা জানান, বিগত বছরগুলোতে একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। হারিয়ারকুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় এবং সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইবাদাত হোসেন পাইলট জানান, কালুরঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, কালুরঘাটে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে না, বরং এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।### ১৯/৪/২৬

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews