রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
সাঘাটায় তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম! কবিতা/আত্মোপলব্ধি /আসাদুজ্জামান খান মুকুল কালিহাতীর বল্লা হাটে পরিচ্ছন্নতা  অভিযান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে —জহির উদ্দিন স্বপন বান্দরবানের লামা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনা সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন এমপি নুরুল দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ জৈন্তাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩ কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করলেন বিজিবি রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল ফয়সাল

শেরপুরে মতিন হত্যার ২৯ মাস, বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ দাবি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬



বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুল মতিন (৬০) হত্যাকাণ্ডের ২৯ মাস অতিবাহিত হলেও ঘাতকরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নিহতের নাতি মাহিন তার নানার খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মতিনের নাতি মাহিন জানান, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর তার নানাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ২৪ নভেম্বর সকালে ঝিনাইগাড়ী পুকুর পাড়ের একটি ধানক্ষেত থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ ২৯ মাস পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা একজন খুনিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বরং তদন্তের নামে মামা মিলন রহমানকে বারবার থানায় ডেকে নিয়ে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আব্দুল মতিনকে হত্যার আগে ও পরে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৮ দিন আগে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন একটি গায়েবি মামলা দায়ের করে, যেখানে মতিনকে ৬৪ নম্বর আসামি করা হয়েছিল। মাহিন অভিযোগ করেন, পুলিশ শুরু থেকেই এই পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে মাদক সংক্রান্ত বিরোধ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যায়।
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, “আব্দুল মতিন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তাকে যেমন মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, তেমনি তার হত্যাকাণ্ডের তদন্তও রহস্যজনকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও নাটোরের সিংড়ার জাকির হত্যাকাণ্ডসহ আমরা অবিলম্বে এই ঘটনাগুলোর উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, “একজন নাগরিককে হত্যার পর আড়াই বছর বিচারহীন রাখা আইনের শাসনের পরিপন্থী। আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান জনবান্ধব সরকারের আমলে এই অসহায় পরিবারটি দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী লাইলী বেগম, মেয়ে মৌসুমী আক্তার, নাতি মাহিন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নিহতের পরিবার সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিএনপি’র একজন একনিষ্ঠ কর্মীর এই হত্যাকাণ্ডে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মনজুর আলম  জানান, মামলাটির নথিপত্র নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী দ্রুততম সময়ে আসামিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পারব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews