
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ২০২৬ সালের জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এ কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ৩২হাজার ৯৪৮ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলায় মোট ১৫টি ইউনিয়ন ও ৪৫টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে। লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুদের মধ্যে কমিউনিটি/সার্ভে ভিত্তিক ৩২ হাজার ৯৪৮ জন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ৭ হাজার ৪৫৮ জন শিশু রয়েছে।
টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় ১টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ৩৬০টি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। এছাড়া পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৭২১ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন।
এছাড়াও, তদারকির জন্য প্রথম সারির ৪৫ জন সুপারভাইজার (এইচআই, এএইচআই, এফপিআই, স্যাকমো, এসআই, সিএইচসিপিসহ অন্যান্য) দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকল অভিভাবককে তাদের শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ আব্দুর রউফ বলেন হাম রুবেলা টিকে দেওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট যেন সেই শিশুকে কেন্দ্রে রাখা হয় যাতে শিশুকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যায়। ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয় সকল ধরনের তথ্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে দেয়া সম্ভব এবং কোন শিশু যাতে বাত না পরে সে ব্যাপারে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবার অঙ্গীকারবদ্ধ । ডা: রউফ আর বলেন এ পর্যন্ত ৪৮ জন হাম রোগে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সালেহ আহমেদ,। সভাপতিত্বে আয়োজন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডঃ আব্দুর রউফ, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) জনাব সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মো: আখতার হেসেন, মো: আনোয়া হোসেন মঞ্জু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই)। দৈনিক ভোরের আওয়াজ প্রতিকার সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া, দৈনিক পর্যবেক্ষণ পত্রিকার প্রতিনিধি সহ আরো অন্যান্য গণমাধ্যম কর্মী ও হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক সমন্বয় ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে বাউফলে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।