অধিকার মর্যাদা ও সম্মান সকল শ্রেণি পেশাার মানুষের চাহিদার অন্যতম। এ যুগের নারীরা জোর গলায় তাদের অধিকারের কথা বলে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা সমঅধিকারের কথা বেশ জোর দিয়ে উচ্চারণ করে। একজন পুরুষ হিসেবে নারীকে সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় ব্যাক্তিগত ভাবে দেবীর আসনে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নারী মা, নারী বোন,নারী প্রেয়সী, প্রেমিকা, সহধর্মিণী, সেই নারী হতেই পারে মহৎ থেকে মহান। কিন্তু সেই মায়ের জাতির বর্তমান অবস্থান খুব একটা সুখকর নয়। সড়ক, পথ,মাঠেঘাটে আজ নারীর দেহ বিক্রির প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উলঙ্গ নারীর অঙ্গ -প্রত্যঙ্গে মোবাইল নম্বর দিয়ে দেহ বিক্রি আর যৌন সুরসুরি দেওয়া আহবান। প্রতিনিয়ত ভাঙছে সংসার, ছুটছে নারী উলঙ্গ হয়ে দেহপশারিনী হয়ে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পার্ক, পরিবহন,পর্যটন, স্পটে, বিউটি পার্লার, ম্যাসেজ পার্লার, এসব এখন নারী দেহ বিক্রির দোকান। এসবের দায় নেই নারী নেত্রী, নারী বিবেক, নারী জাগরণ, নারী আন্দোলনের!? দায় নেই, সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র, পরিবার, ধর্মীয় অনুশাসন ও মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারার মননশীল দুনিয়ার!.
আন্তর্জাতিক নারী দিবস যা এক সময় ছিল আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে পালিত হয় দিবসটি । সারা বিশ্বব্যাপী একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবস উদ্যাপন হয়ে থাকে। বিশ্বের এক এক প্রান্তে নারীদিবস উদ্যাপনের প্রধান লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন । পৃথিবীর অনেক জায়গায় নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদ্যাপনের মুখ্য বিষয় হয়। অন্য দিকে মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি বেশি গুরুত্ব পায়।
দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধরা।বাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়ঃ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। সারা বিশ্বের সকল দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। তন্মধ্যে - আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান,বেলারুশ,বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া,কিউবা,জর্জিয়া,গিনি-বিসাউ,ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান,লাওস,মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া,তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা,ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনামএবং জাম্বিয়া।এছাড়া, চীন,মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালে শুধুমাত্র নারীরাই সরকারি ছুটির দিনভোগ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com