
বরিশাল পল্লীবিদ্যুত সমিতি-১ এর আওতাধীন মেহেন্দিগঞ্জ জোনাল অফিসের কর্তাব্যক্তিসহ তার স্টাফদের বিরুদ্ধে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে অসুস্থ ভুক্তভোগী এক গ্রাহক। বুধবার সকাল ১১ টায় মেহেন্দিগঞ্জ পৌরএলাকার বদরপুর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অসুস্থ বৃদ্ধ মোঃ আলী খান(৯০) বদরপুরস্থ তার নিজ বাড়ীতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত তিনি হার্ডের রোগী। তার হার্ডে ২টি রিং পড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন ২ বেলা নেবুলাইজারের মাধ্যমে তাকে শ্বাস কষ্টের ঔষধ গ্রহন করতে হয় এবং গরম পানি ব্যবহার করে তাকে গোছল করতে হয়। এছাড়া তার শিশু ২টি নাতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেনী ও ১ম শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। বিদ্যুত তার পরিবারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের লোকজন তার সাথে ১ মাস যাবত যে আচরন করতেছ তা একজন ফাঁসির আসামির সাথেও করা হয়না। তিনি আরো জানান,তার ছেলেরা সবাই কেউ বিদেশ,কেউ ঢাকা,কেউ বরিশাল থাকেন। বাড়িতে তিনিসহ ছোট পুত্রবধু ও ২ নাতি বসবাস করেন। যেহেতু সে প্রায়ই অসুস্থ থাকে,তাই বিদ্যুত বিল মাঝে মাঝে বকেয়া পড়ে। সময় মতো ব্যাংকে গিয়ে দিতে পারেন না।এরই ধারাবাহিকতায় ২ মাসের বিদ্যুত বিল বকেয়া পড়ে তার। ছোট ছেলে মোঃ আলম খান ঢাকা থেকে বাড়িতে আসলে গত ১৪ জানুয়ারী সকাল ১১ টার মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানাসহ বিদ্যুত বিল পরিশোধ করে দেন। কিন্ত ততক্ষণে মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইব্রাহিম খলিল উল্লাহসহ আরো কয়েকজন তার বাড়িতে হানা দিয়ে লাইন বিচ্ছিন্ন করে মিটার নিয়ে যায়। বাড়িতে থাকা তার পুত্রবধূ বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে ব্যাংকে যাবার কথা বললেও তারা তাতে কর্নপাত করেনি উল্টো মেয়েছেলের সাথে বাজে বকাবকি করেন। এই নিয়ে ঐদিন বেলা ১১টার দিকে পল্লী বিদ্যূতর জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম খলিলল উল্লার সাথে বদরপুর বজিৎখা সড়কে মোঃ আলী খানের কনিষ্ঠ পুত্র আলম খানের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এই ঘটনাকে পুঁজি করে নিজেদের দোষ ঢাকতে পল্লীবিদ্যুতের স্থানীয় জোনাল অফিসের সহকারি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) মোঃ দেলোয়ার হোসেন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশ দিয়ে আলম খানকে গ্রেফতার করিয়ে জেল হজতে পাঠান। এতেই ক্ষান্ত হননি পল্লীবিদ্যুতের লোকজন। পরদিন অসুস্থ বৃদ্ধ মোঃ আলী খানের ঘরের বেড়ার সাথে তার আরেক ছেলের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ করার জন্য আনিত মিটারটিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যান বলে জানান মোঃ আলী খান। এযেনো মানবাধিকার লংগনের মহাৎসব চালিয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ। মোঃ আলী খানের দাবী যদি তার ছোট ছেলের সাথে পল্লী বিদ্যুতের লোকদের ঝামেলা হয়ে থাকে সেটা আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তাহলে কেনো তার মতো একজন অসুস্থ বৃদ্ধ নাগরিককে এভাবে মাসের পর মাস অন্ধকারে কাটাতে হবে। এটা কি আফ্রিকার কোনো জংলি দেশ? তিনি দেশের মানবাধিকার সংস্থার প্রতি আহবান জানান,তার এই জিম্মি দশা থেকে মুক্তির পথ দেখানো জন্য। তার সাথে ঘটে যাওয়া এই অনাচারের বিচার চান তিনি। পল্লীবিদ্যুতের খামখেয়ালির জন্য বিদ্যুতের অভাবে তার প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া ২ নাতিনের পড়ালেখা বিঘ্ন হচ্ছে। সাথে সাথে তার শ্বাস কষ্টের ঔষধ ব্যবহারের নেবুলাইজেশন মেশিন বিদ্যুতের অভাবে চালাতে পারছেনা। যে কোনো সময় এই অবহেলা জনিত কারনে তার মৃত্যু হতে পারে, আর সেজন্য মেহেন্দিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত কর্তৃপক্ষ সম্পূর্নরুপে দায়ী থাকবেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন,এটা কি তাদের প্রতি অবিচার নয়? রাষ্ট্রের একটি সংস্থা কি করে একটা পরিবারকে এভাবে জিম্মি করার অধিকার রাখে? এমনই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে। এ ব্যাপারে মেহেন্দিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুতের জোনাল অফিসের দায়িত্বে থাকা সহকারি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান,তারা যা কিছু করেছে,সবকিছুই তাদের নিয়মের মধ্যে থেকেই করেছে। পল্লী বিদ্যুতের দায়ের করা মামলার আসামী মোঃ আলী খানের কনিষ্ঠ পুত্র মোঃ আলম খান জানান,গত ১৪ জানুয়ারি তিনি যখন বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে বাড়িতে ফিরছিলেন,তখন পথিমধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ জোনাল অফিসের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম খলিল উল্লার সাথে সাক্ষাত হয়। সেসময় তিনি তাকে অনুরোধ করেন,যেহেতু বিল পরিশোধ করা হয়েছে তাই তাদের বিদ্যুত সংযোগটা লাগিয়ে দেয়ার জন্য। এসময় জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ তার কাছে ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করলে এনিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরক্ষণেই তিনি ফোন করে পুলিশ এনে তাকে আটক করিয়ে থানায় নেওয়ায় এবং থানায় থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও মারামারির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। তার দাবী, তার জমির উপর পল্লীবিদ্যুতের খাম্বা বসানো সময় অনেক আগে তাদের সাথে একবার ঝামেলা হয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিয়েছে মেহেন্দিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত কর্তৃপক্ষ। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট এই অবিচারের সুবিচার দাবী করেন।