ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠন করছে বিএনপি। বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হলেও এবার মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই হয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি গাজীপুর-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন মন্ত্রী সভায় স্থান না পাওয়ায় হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সাধারণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। একেএম ফজলুল হক মিলনের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ মূল্যায়নের দাবি জানান কালীগঞ্জবাসি। তিনি গাজীপুর-৫ আসন থেকে তৃতীয় বারের মতো বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ঘোষিত এ মন্ত্রিসভায় গাজীপুর জেলা থেকে কেউ স্থান না পাওয়ায় হতাশ গাজীপুরবাসী।গাজীপুরবাসীর ধারণা ছিলো যোগ্যতার ভিত্তিতে গাজীপুর-৫ আসনের ত্যাগী ও যোগ্য নেতা ফজলুল হক মিলন মন্ত্রী পাবেন। গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরব দেখা যাচ্ছিলো ফজলুল হক মিলনের নাম। তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলো গাজীপুরের মানুষ। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে ফজলুল হক মিলনের নাম না দেখে হতাশ হয়েছে সবাই। কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, একেএম ফজলুল হক মিলন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি। সারা বাংলাদেশের তারুণ্যের আইকন একজন রাজনীতিবিদ। তাকে দেখে তরুণরা রাজনীতি আশার উৎসাহ পায়। তার মতো মেধাবী
সংসদ সদস্য মন্ত্রী পরিষদে বড্ড বেশি প্রয়োজন। তিনি মন্ত্রী হলে গাজীপুরবাসীর যেমন উপকার হবে। তেমনি রাষ্ট্র একজন মেধাবী যোগ্য একজন মন্ত্রী পাবেন। আমরা আশাকরি তারেক রহমানের ভাবনায় ফজলুল হক মিলন অবশ্যই বিবেচনায় থাকবে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিনা ফজলুল হক মিলন মন্ত্রিসভায় নেই। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাকে মন্ত্রী সভায় রাখা উচিত ছিল। আমরা গাজীপুর-৫ কালীগঞ্জবাসী হতাশ হয়েছি। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, আমরা ভেবেছিলাম যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নবগঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় গাজীপুর জেলা থেকে অন্তত দু’জন মন্ত্রী থাকবেন। সে জায়গায় একেএম ফজলুল হক মিলনের নাম না থাকা গাজীপুরবাসীর জন্য সত্যিই হতাশাজনক। তবে তিনি একজন মেধাবী ও পরিচিত সংসদ সদস্য। সারা বাংলাদেশের মানুষ তাকে চেনেন। আমরা আশা করি, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি গাজীপুরের মানুষের ন্যায্য দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির সাবেক ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলন সৎ, যোগ্য একজন মেধাবী রাজনৈতিকবিদ বলে আমরা মনে করি। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ফজলুল হক মিলন সাহেবের মতো যোগ্য সংসদ মন্ত্রী পরিষদে খুব প্রয়োজন। আমরা আশাকরি দেশের স্বার্থে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গড়তে তাকে পাশে রাখবেন। একেএম ফজলুল হক মিলন ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো নেতার অন্যতম একজন। কেন্দ্রীয় এই নেতা হাসিনা সরকারের আমলে ১১ বার কারাগারে গিয়েছিলেন। ফজলুল হক মিলন কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মা মৃত্যুবরণ করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় মিলনের স্ত্রী শম্পা হক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক মিছিল সভা করে ৪ বার আওয়ামীলীগের আক্রমণে আহত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের একমাত্র বিএনপির এমপি ছিলেন ফজলুল হক মিলন। গাজীপুর-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. খায়রুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৬১ ভোট।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com