ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. আব্দুর রহিম সরকার। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদকর্মীদের কাছে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি ৫টি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত এবং পুরো আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। লিখিত অভিযোগে আব্দুর রহিম সরকার জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে বিএনপি সমর্থিত নেতা-কর্মীরা জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সিল মেরেছে।
অভিযোগে নির্দিষ্ট ৫টি কেন্দ্রের নাম গুলো হলো১. বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নং-১২০) ২. কুমিরাদাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নং-১২৪) ৩. গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নং-১২৫) ৪. কোচারশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নং-১০৫)৫. দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র নং-১২৭) হিসাবে গরমিল ও কারচুপির দাবি জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, ভোট গণনার সময়ও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। একটি কেন্দ্রে ১৮০০ ভোটের স্থলে ২৮০০ ভোট দেখানো হয়েছে, যেখানে তার পোলিং এজেন্ট স্বাক্ষর করেননি। এছাড়া ১২০টি ব্যালটের বিপরীতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১০০টির বান্ডিল করা হয়েছে এবং ধানের শীষের বান্ডিলে দাঁড়িপাল্লার ব্যালট ঢুকিয়ে গণনা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে আব্দুর রহিম সরকার বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। আমার কাছে এসব অনিয়মের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে।” তিনি অবিলম্বে উল্লিখিত ৫ কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে সেখানে পুনরায় ভোট গ্রহণ এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ভোট পুনর্গণনা করে সংশোধিত ফলাফল ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে আব্দুর রহিম সরকার সামান্য ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।