প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২৬, ৭:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬, ৪:১৯ পি.এম
নোয়াখালীতে মোট ৮৭৫টি ভোট কেন্দ্রের ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ, সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, অতি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা। অপরদিকে,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরসহ নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে র্যাবের টহল জোরদারসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে র্যাব। চেকপোস্ট র্কাযক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন নোয়াখালি জেলার র্যাব-১১,এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মুহিত কবির ও ক্যাপ্টেন নাসিম রেজা সহ র্যাবের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগন। ক্যাপ্টেন নাসিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, জনগণ ও ভোটকেন্দ্র সমূহের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা,সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে ভোটদান নিশ্চিত করণে র্যাব,১১,সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অনেক গুলো আভিযান পরিচালনা করেছি। এটি আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।আমরা যৌথ বাহিনীর সম্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছি। জনগনের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও নোয়াখালীতে নির্বাচনের নিরাপত্তায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন ফেনী ৪, বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ সাংবাদিকদের জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে জেলায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী-১, আসনে ১৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-২,(সেনবাগ) আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে ৭৩টি সাধারণ এবং ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। জেলার গুরুত্বপুর্ন নোয়াখালী-৩,বেগমগঞ্জ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপুর্ন) ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক।বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার বুলবুল আহম্মেদ জানান,এ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্রর মধ্যে ৬১টি ভোট কেন্দ্র ঝঁকিপুর্ন হিসেবে চিহ্নিত করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
নোয়াখালী-৪,আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯৮টি। এর মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র।
নোয়াখালী-৫, আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ এবং ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-৬, আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে,যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। নোয়াখালী-৪, (সদর)আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বিভিন্নস্থানে নারীদের হেনস্তা করছে। এছাড়াও গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক এলাকায় শঙ্কা আছে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা চাই।
নোয়াখালী-৫,(কোম্পানীগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পাশের সেনবাগ আসনে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নাই। তারা সেখান থেকে লোকজন এনে কোম্পানীগঞ্জ- কবিরহাট এলাকায় ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। সে ক্ষেত্রে এখানে ১৫৫ কেন্দ্রের সবগুলোই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। নোয়াখালী-৬,(হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়া একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা। এখানে চোর-ডাকাত, বনদস্যু-জলদস্যুদের ব্যবহার করে একটি দল ভোট ডাকাতির চেষ্টা করছে। আমরা বারবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। এখনো কোনো প্রতিকার দেখছি না। একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, একটি দলের প্রার্থীর কাজ হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার করা। এ আসনে তারা ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টায় রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া জেলার অন্যান্য ৫টি আসনেও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৬১ অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রসহ পুরো ছয় আসনের ৮৭৫ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় আমাদের প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ শাহজালাল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন,যুগ্ম-সম্পাদক :মো. কামাল উদ্দিন,
নির্বাহী সম্পাদক : রাবেয়া সিরাজী
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ : মোতালেব ম্যানশন, ২ আর কে মিশন রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১২০৩।
মোবাইল : 01796-777753,01711-057321
ই-মেইল : bhorerawajbd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত